ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে হত্যা, তৃতীয় বিশ্ব থেকে অভিবাসন বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
আফগান নাগরিক রহমানুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার পর দেশটিতে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ওয়াশিংটনে বুধবার হোয়াইট হাউসের কাছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, রহমানুল্লাহ তাদের অতর্কিতে আক্রমণ করেন। ২৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন—একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায়, যেটি বাইডেন প্রশাসন চালু করেছিল আফগান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা ব্যক্তিদের জন্য।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের দিন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এ ঘটনায় নিহত সারাহ বেকস্ট্রমের বয়স ২০ বছর। আহত অ্যান্ড্রু উলফের বয়স ২৪। তারা দুইজনই সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মোতায়েনকৃত সামরিক বাহিনীর অংশ ছিলেন—ট্রাম্পের নির্দেশে যারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহায়তায় কাজ করছিল।
শুক্রবার ট্রাম্প আবার সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে সব অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করবেন। তবে তিনি কোন কোন দেশকে এই শ্রেণিতে ফেলেছেন, তা বলেননি।
তিনি আরও বলেন, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে অবৈধভাবে যাদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে, তাদের সকলকেই বের করে দেওয়া হবে।
এদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৫৩ সালের শরণার্থী কনভেনশন অনুযায়ী মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘আমরা আশা করি সব দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও আছে, তারা শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করবে।’
ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন একটি বড় ধরনের অভিবাসন পর্যালোচনা শুরু করেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনে যেসব আফগানকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তাদের কেস নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে ১৯টি দেশ, যার মধ্যে আফগানিস্তানও আছে।
রহমানুল্লাহ আগে আফগানিস্তানে একটি সিআইএ-সমর্থিত ইউনিটে কাজ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি ওয়াশিংটন রাজ্যে বসবাস করছিলেন স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের সঙ্গে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সে রাজ্য থেকে গাড়ি চালিয়ে এসে .৩৫৭ ম্যাগনাম রিভলভার দিয়ে হামলা চালায়। পরে অন্য সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়।
ট্রাম্প বলেন, অভিযুক্তের পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে কি না, তা তারা ‘পুরো বিষয় বিবেচনা করে’ দেখছে।
অন্যদিকে, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জর্জ লওয়েরি বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অভিবাসন নীতি স্থায়ীভাবে পাল্টাতে পারেন না। তা কংগ্রেস দ্বারা নির্ধারিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ অভিবাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
লেবাননের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক জাসমিন লিলিয়ান দিয়াব বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য হাজার হাজার শরণার্থীর কেস পর্যালোচনা করা বা আবেদন বাতিল করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তার মতে, গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ নেই যে শরণার্থীদের আগমনের সঙ্গে অপরাধের হার বাড়ে।

