যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের পেছনে রুশ খসড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে তৈরি করা ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনার উৎস নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই প্রস্তাবের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে একটি অনানুষ্ঠানিক রুশ প্রস্তাব, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জমা দেয় মস্কো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর রাশিয়া তাদের প্রস্তাব হস্তান্তর করে।
এই প্রস্তাবে পূর্ব ইউক্রেনের একাংশ ছেড়ে দেওয়ার মতো শর্ত ছিল, যা আগে ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই নথিটিই পরবর্তীতে ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, শান্তি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদী।
ট্রাম্প জানান, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে এবং সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকোল ইউক্রেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কেন এবং কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ প্রস্তাবের ওপর নির্ভর করল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কো রুবিওসহ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, মস্কোর দাবিগুলো ইউক্রেন সরাসরি নাকচ করবে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবিও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন ধরনের ‘নন-পেপার’ পেয়েছেন, যদিও বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এদিকে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ বাড়ছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে রাশিয়ার পছন্দের তালিকা বলেই দেখছেন। ইউক্রেনকে বলা হয়েছে, তারা রাজি না হলে সামরিক সহায়তা কমে যেতে পারে।
জানা গেছে, এই পরিকল্পনার অন্তত একটি খসড়া তৈরি হয় মায়ামিতে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, উইটকফ ও রুশ অর্থ তহবিল প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভের বৈঠকে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মকর্তার জানা ছিল না।
ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, উইটকফ পুতিন কীভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন, সে বিষয়ে রুশ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভকে পরামর্শ দেন।
শুরুতে পরিকল্পনাটি ২০ দফার ছিল বলে জানা যায়। পরে দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সেটি বাড়িয়ে ২৮ দফায় নেওয়া হয়।
তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে মূল প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা হয়। ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার পর ৯টি দফা বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার একদল মার্কিন সিনেটর জানান, রুবিও তাদের বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নয় বরং রাশিয়ার দাবিপত্র। যদিও হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তর এই মন্তব্য অস্বীকার করেছে।
জেনেভায় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বিতর্কিত অংশগুলো বাদ দিতে সম্মত হন।
এ মুহূর্তে ড্রিসকোল আবুধাবিতে রুশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তিত শান্তিচুক্তির কাঠামো ইউক্রেন মেনে নিলেও, তারা বলছে, সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলো—বিশেষ করে ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয়—জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকে চূড়ান্ত করতে হবে।

