Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

দাফন ও সৎকারের নতুন নিয়ম ঘোষণা, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে চীনের গুইঝো প্রদেশে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০১:০১ পিএম

দাফন ও সৎকারের নতুন নিয়ম ঘোষণা, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে চীনের গুইঝো প্রদেশে

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুইঝো প্রদেশে দাফন ও সৎকার নিয়ে নতুন এক নির্দেশনার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের গ্রামীণ বিক্ষোভগুলোর ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো, যেগুলোর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

বিক্ষোভ শুরু হয় সপ্তাহান্তে, শিডং শহরে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মৃত্যুর পর লোকজনকে দাফনের বদলে দাহ করার নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

গুইঝো একটি দরিদ্র ও গ্রামীণ প্রদেশ, যেটি শেনঝেন বা সাংহাইয়ের মতো শহর থেকে অনেক দূরে। এই অঞ্চলে মিয়াও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বাস, যাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মৃতদের দাফন করাই নিয়ম। ফলে, সৎকারের পদ্ধতি বদলের সরকারি নির্দেশনায় ক্ষোভ বাড়ে।

একটি অনিরীক্ষিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক গ্রামবাসী চিৎকার করে বলছে, ‘কমিউনিস্ট পার্টি যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর খুঁড়তে চায়, তাহলে আগে গিয়ে শি জিনপিংয়ের পূর্বপুরুষদের কবর খুঁড়ুক’।

অন্য একটি ভিডিওতে, যেটি ফ্রিডম হাউসের ‘চায়না ডিসেন্ট মনিটর’ নামে একটি প্রকল্প সংগ্রহ করেছে, সেখানে দেখা যায়, পুলিশ গাড়ি ঘিরে ধরেছে অসংখ্য গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাহকরণ প্রথা চালুর সিদ্ধান্ত ২০০৩ সালের একটি আইনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কবরস্থানের জন্য জমি সংরক্ষণ এবং ‘মিতব্যয়ী নতুন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংস্কৃতি’ গড়ার জন্য এটি জরুরি।

চীনে গত কয়েক বছর ধরে কবরস্থানের স্থানসংকট দেখা দেওয়ায় সরকার সমুদ্রসৎকারের মতো বিকল্প পদ্ধতির প্রচার চালাচ্ছে। তবে গ্রামীণ জনগণের কাছে দাফন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও বিশ্বাসের অংশ।

শিডং শহরের প্রশাসনিক জেলা শিফেং কাউন্টির এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বছরের শুরুতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের চাপের মুখে তার দাদাকে দাহ করা হয়। তারা হুমকি দিয়েছিল, নির্দেশ না মানলে পরিবারের তিন প্রজন্ম ভুগবে।

ভিডিও অ্যাপ ‘দউইন’-এ বহু ব্যবহারকারী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একজন লিখেছে, ‘হ্যাঁ, সবাই মিলে ঐতিহ্যবাহী দাফনের পক্ষে দাঁড়াই!’

চায়না ডিসেন্ট মনিটরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে তারা ১ হাজার ৪০০টির মতো অসন্তোষের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। পুরো ২০২৫ সালের হিসাবে এ পর্যন্ত ৬৬১টি গ্রামীণ বিক্ষোভ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।

অনেক বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ। তবে গুইঝোর মতো বিক্ষোভের ক্ষেত্রে জনসাধারণের বিশ্বাস ও সংস্কারে হস্তক্ষেপ প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

চায়না ডিসেন্ট মনিটরের গবেষণা প্রধান কেভিন স্লেটেন বলেন, গুইঝোর বিক্ষোভগুলো ব্যতিক্রম। কারণ, সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যখন কোনো ইস্যু মানুষের খুব ব্যক্তিগত কিছুতে আঘাত হানে—যেমন অর্থনৈতিক জীবিকা কিংবা সংস্কৃতি বা পূর্বপুরুষদের স্মৃতি—তখন মানুষ প্রতিবাদ করতে বেশি প্রস্তুত থাকে, এমনকি ঝুঁকি নিতেও তারা রাজি থাকে।’

গত আগস্টে সিচুয়ান প্রদেশে স্কুলে সহপাঠীর নিপীড়নের ঘটনায় ব্যাপক গণবিক্ষোভ হয়। কয়েক দিন ধরে চলা সেই সংঘর্ষে শত শত মানুষ প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।

গুইঝোর শিফেং এলাকার স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন