Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

কপ৩০

তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও চুক্তি, জীবাশ্ম জ্বালানি যুগের সমাপ্তি আরেক ধাপ কাছে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম

তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও চুক্তি, জীবাশ্ম জ্বালানি যুগের সমাপ্তি আরেক ধাপ কাছে

শনিবার বিশ্বের দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতে যা প্রয়োজন, এই উদ্যোগ তার থেকে অনেক দূরে।

ব্রাজিলে দুই সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্বেচ্ছামূলকভাবে আলোচনা শুরু করার এক মত তৈরি হয়েছে—যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা। তবে এই সামান্য অগ্রগতিও এসেছে তেল-উৎপাদক দেশগুলোর কঠোর বিরোধিতার মধ্য দিয়ে।

শুক্রবার রাতভর এক চরম অচলাবস্থার পর আলোচনা ভেঙে পড়ার মুখ থেকে ফিরে আসে। একদিকে ৮০টির বেশি উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের জোট, অন্যদিকে সৌদি আরব ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর বিরোধ। শেষ পর্যন্ত, শনিবার সকালে কিছুটা সমঝোতা হয়।

জলবায়ু আন্দোলনকর্মীদের কাছে এই ফলাফল হতাশাজনক হলেও কেউ কেউ স্বস্তি পেয়েছেন যে, অন্তত কিছু অগ্রগতি হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে অভিযোজন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আংশিক সফলতা পেয়েছে। তারা এখন থেকে বছরে ১২০ বিলিয়ন ডলার পাবে, যদিও এটি পুরো ৩০০ বিলিয়নের প্রতিশ্রুত অর্থের অংশ এবং তা মিলবে ২০৩৫ সাল থেকে—যেখানে তারা ২০৩০ সালের কথা বলেছিল।

এই সম্মেলন হয়েছিল আমাজনের নদীমুখে অবস্থিত ব্রাজিলের বেলেম শহরে, যা ‘রেইনফরেস্ট কপ’ নামে পরিচিত। কিন্তু, বন উজাড় বন্ধের রোডম্যাপ চূড়ান্ত চুক্তি থেকে বাদ পড়ে, যা পরিবেশকর্মীদের জন্য বড় ধাক্কা।

১৯৪টি দেশ চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। টানা ১২ ঘণ্টা আলোচনা শেষে শনিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই সম্মেলনকে বলা হয়েছিল ‘সত্যের কপ’। এক পর্যায়ে আলোচনায় বিরতি দেওয়া হলেও পরে সভাপতি আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো জানিয়ে দেন—আগেই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোই চূড়ান্ত।

জার্মানির সাবেক জলবায়ু দূত জেনিফার মরগান বলেন, ‘‘যতটা দরকার, তার থেকে অনেক কম হলেও, বেলেমে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। প্যারিস চুক্তি কাজ করছে। দুবাইয়ে হওয়া আগের কপ সম্মেলনে যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছিল, তা এগোচ্ছে। তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলোর বিরোধিতার মধ্যেও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব টিকে আছে।’’

‘পাওয়ার শিফট আফ্রিকা’র পরিচালক মোহাম্মদ আদও বলেন, ‘‘বিশ্ব রাজনীতির বিভাজনের মধ্যে এই সম্মেলনে কিছু ছোট পদক্ষেপ হয়েছে। কিন্তু সংকটের প্রকৃত রূপের তুলনায় এই উদ্যোগ খুবই কম। ধনী দেশগুলো নিজেদের ‘জলবায়ু নেতা’ বললেও, তারা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত নির্গমন কমানোর লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন