Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

চীনের চাপ বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের দিকে ঝুঁকবে জাপান

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪৬ পিএম

চীনের চাপ বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের দিকে ঝুঁকবে জাপান

তাইওয়ান প্রসঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে চীন অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন চলতে থাকলে জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে।

চীনের প্রতিক্রিয়া এসেছে খুব দ্রুত। তারা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে, জাপানি সামুদ্রিক পণ্য আমদানি স্থগিত করেছে এবং চলচ্চিত্র অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে—টোকিওর ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা এবং জাপানের কৌশলগত জায়গা কতটা সংকীর্ণ।

বর্তমানে জাপান পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং উত্তেজনা প্রশমনের পথে আছে। দ্বিপাক্ষিক সংলাপ চালু রাখা ও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন আশায় তারা অপেক্ষা করছে। তবে এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে, জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও সমমনাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় আরও বাড়াতে বাধ্য হবে।

এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সাবেক কূটনীতিক কার্ট টং বলেন, ‘জাপান এখনো উত্তেজনা না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে চীন যদি চাপ বাড়াতে থাকে, এই অবস্থান বদলাতেও সময় লাগবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই জাপানের পাশে থাকার সংকেত দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাস বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন টোকিওর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছে।’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে ‘যা চায়’ তা দিতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা হতে পারে প্রধান হাতিয়ার। বিশেষ করে চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে জাপান কড়াকড়ি আনতে পারে, যদিও এমন পদক্ষেপ জাপানের নিজের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক মাসাহিরো ওয়াকাসুগি বলেন, ‘যদি জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে তারা একসঙ্গে চীনের চিপ খাতকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে পারবে।’

চীনের হুমকি বাড়ার পেছনে তাকাইচির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন তাইওয়ানে সামরিক হামলা করলে জাপান হস্তক্ষেপ করতে পারে। বেইজিং বারবার তার এই মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি তুললেও, জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা তাকাইচির পেছনে সরে আসার ইচ্ছা কম।

যদিও জাপান এখনো সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় যাচ্ছে না, তবু দীর্ঘমেয়াদে বেইজিং যদি চাপ অব্যাহত রাখে, তা বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আনতে পারে চীন।

২০১০ সালে এক ভূখণ্ড বিরোধ নিয়ে চীন এই রকম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এরপর জাপান বিকল্প খনিজ উৎস খুঁজতে থাকে এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘লাইনার রেয়ার আর্থস’ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে।

তবুও জাপান এখনো চীনা খনিজের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই নির্ভরতা আবার বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এই খনিজ পদার্থগুলোর চাহিদা বেড়েছে বৈদ্যুতিক যান ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে। এ বছরের শুরুতেই চীন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তথ্য বিশ্লেষক বনি গ্লেজার মনে করেন, চীন হয়তো সরাসরি রপ্তানি বন্ধ করবে না, তবে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে পরিস্থিতি কঠিন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই আশ্বাস কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে জাপান এখনো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে রাজি নয়। ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক জেরেমি চ্যান বলেন, ‘টোকিও এখনো কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে চায়।’ প্রয়োজনে জি–সেভেন দেশগুলোর কাছে চীনের বিরুদ্ধে সমর্থন চাইবে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনীতিকে আলাদা করে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে—বলছেন জাপান ইনোভেশন পার্টির সংসদ সদস্য হেই সেকি। তিনি নিজে চীনে জন্মেছেন, পরে জাপানের নাগরিকত্ব নিয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলেও আমাদের কিছুটা বিচ্ছিন্ন হতে হবে—এটাই বাস্তবতা।’

সূত্র: জাপান টাইমস

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন