ব্রিটিশ জলসীমায় রুশ গোয়েন্দা জাহাজ, পাইলটদের দিকে লেজার তাক করার অভিযোগ
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, একটি রুশ গুপ্তচর জাহাজ ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং সেটি ব্রিটিশ সামরিক পাইলটদের ওপর লেজার রশ্মি ছুড়েছে। বুধবার লন্ডনে এক বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য এখন ‘হুমকির এক নতুন যুগে’ প্রবেশ করেছে।
জন হিলি বলেন, ‘ইয়ান্তার’ নামের রুশ গোয়েন্দা জাহাজটি বর্তমানে স্কটল্যান্ডের উত্তরে, ব্রিটেনের জলসীমার কিনারায় অবস্থান করছে। জাহাজটির মূল উদ্দেশ্য হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ব্রিটেনের সমুদ্রতলের কেবলগুলোর মানচিত্র তৈরি করা।
তিনি জানান, এই জাহাজের গতিবিধি নজরে রাখতে রয়েল এয়ার ফোর্সের একটি পসেইডন-৮ বিমান পাঠানো হয়েছে। পাইলটরা জানিয়েছেন, তাদের দিকে লেজার তাক করা হয়েছিল। জন হিলি বলেন, ‘রাশিয়ার এই আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমার বার্তা পরিষ্কার: আমরা তোমাদের দেখছি, আমরা জানি তোমরা কী করছ, আর যদি ইয়ান্তার দক্ষিণে নামে, আমরা প্রস্তুত।’
লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এই মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, ইয়ান্তার একটি ‘সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণা জাহাজ’ এবং এটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় কাজ করছে। এক বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, ব্রিটেনের পানির নিচের যোগাযোগব্যবস্থা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
রুশ দূতাবাস অভিযোগ করেছে, ‘লন্ডনের রাশিয়াবিরোধী অবস্থান এবং যুদ্ধোন্মাদ পরিস্থিতি তৈরি করা ইউরোপের নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করছে এবং নতুন বিপদের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।’
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা পিএ মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ইয়ান্তার ব্রিটেনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঢুকেছে, যা উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এটি এখনও ব্রিটেনের ১২ নটিক্যাল মাইল জলসীমায় প্রবেশ করেনি।
জন হিলি বলেন, রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যকে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত করতে পারবে না। বরং সরকার আরও সতর্ক থাকবে—যেমনটা ন্যাটোর আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাশকতা প্রতিরোধে করছে, ঠিক তেমনই।
এই বছর দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটেন ইয়ান্তারের তৎপরতা নিয়ে সরব হলো। ব্রিটিশ সরকার বলছে, এই জাহাজ ব্রিটেন ও তার মিত্রদের সমুদ্রতলের কেবল ম্যাপ করে এবং এটি রাশিয়ার গোপন সামুদ্রিক গবেষণা ইউনিট ‘গুগি’-র অন্তর্ভুক্ত। তবে জন হিলি বলেন, এবারই প্রথম রাশিয়া সরাসরি ব্রিটিশ সামরিক বিমানের দিকে লেজার ছুড়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং নৌবাহিনীর ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ বদলে ফেলা হয়েছে, যাতে ইয়ান্তারের গতিবিধি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ইয়ান্তার দিক পরিবর্তন করে, তাহলে আমাদের সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে।’
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ইয়ান্তারের এই চলাফেরা রাশিয়ার সেই ধারাবাহিক কৌশলের অংশ, যেখানে মস্কো ইউরোপকে সতর্ক করতে চায়—ইউক্রেনকে সমর্থনের জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ড্রোন বারবার ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। নাশকতার ঘটনাও ঘটেছে। এই সপ্তাহেই পোল্যান্ড-ইউক্রেন রেলপথে বিস্ফোরণের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে পোলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নজিরবিহীন হামলা। আর মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া পশ্চিম ইউক্রেনে বিমান হামলা চালানোর পর পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার আকাশে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ওড়ানো হয়।
জন হিলি বলেন, ‘এটা এক নতুন ধরনের হুমকির যুগ।’

