Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব অনুমোদন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪২ এএম

জাতিসংঘে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব অনুমোদন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে। এই প্রস্তাবে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং একটি সম্ভাব্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পথনির্দেশ।

রেজুলেশনটি পাস হয়েছে ১৩–০ ভোটে। চীন ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটের পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য, এবং এই অঞ্চলের সব মানুষের জন্য একটি নতুন পথের সূচনা।’

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের উল্লেখ যুক্ত হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরব ও ইসলামি বিশ্বের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য পাঠানোর আশা করা হচ্ছে।

তবে ভোটের আগের দিন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও স্পষ্ট করে বলেন, তার সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে। এতে রেজুলেশন বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

ভোটের পর হামাস একে ‘আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্বের চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, তারা নিরস্ত্র হবে না।

সমর্থকদের মতে, এই রেজুলেশনের মাধ্যমে গাজায় অবশিষ্ট সহায়তা প্রবেশে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরের কাজ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার শুরু এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য পথ খুলে যেতে পারে।

শুরুতে খসড়া প্রস্তাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। পরে তা যোগ করা হয়, তবে তা অস্পষ্ট ও শর্তসাপেক্ষ। বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ সংস্কার করলে এবং গাজা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে, তখন ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি হতে পারে।’

আরব ও ইসলামি দেশগুলো এবং ইউরোপীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো আরও সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইলেও আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং গাজার ২২ লাখ মানুষের খাদ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা আপোষে সম্মত হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিনিধি জেমস কারিউকি বলেন, ‘যে পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাব দিয়েছি, তার কিছু রাখা হয়েছে। আমরা আশা করি এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’

আলজেরিয়ার প্রতিনিধি আমর বেনদজামা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরির লক্ষ্যে এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এই রেজুলেশন তার সংযুক্তিসহ সম্পূর্ণভাবে পড়তে হবে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো দখল, সংযুক্তিকরণ বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি নয়।’

নেতানিয়াহু প্রথমে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রেজুলেশনের ভাষায় সম্মতি দিলেও পরে জোটসঙ্গীদের চাপে তা থেকে সরে আসেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত।’

এই রেজুলেশনকে গাজা নিয়ে জাতিসংঘের বিরল কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত দুই বছরে অন্তত ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এটি পাশ হলো, যার পেছনে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রেজুলেশন অনুযায়ী, একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প। তবে বোর্ডের সদস্য কারা হবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এটি জাতিসংঘের কাছে জবাবদিহি করবে না এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকেও মানতে বাধ্য নয়।

এছাড়া গাজা শাসনের জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে কারা এই কমিটিতে থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রেজুলেশনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাহিনী হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র জব্দ ও ভাঙার ক্ষমতা পাবে। তবে কেউ এখনো শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশ নিতে সম্মতি দেয়নি।

হামাস আবারও বলেছে, তারা অস্ত্র ছাড়বে না এবং এই ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ‘এটি গাজার ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব।’

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের ‘সংস্কার’–এর শর্ত, যা রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত, সেটিও অনির্দিষ্ট। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, সেবা দেওয়ার জন্য নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি কমিটির নাম যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারণ করা জরুরি।

ভোটের পর সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘বোর্ডের সদস্যসহ আরও বড় ঘোষণা আসছে সামনে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন