মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেলের জাহাজ জব্দ করেছে ইরান
তেহরানের ভালি-আসর স্কয়ারে প্রদর্শিত একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওমান উপসাগরে জাহাজ পর্যবেক্ষণ করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌ ইউনিট। সেই দৃশ্যের একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে স্কয়ারটিতে (এএফপি)।
ইরান বলেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ওই ট্যাঙ্কারটি শুক্রবার আটক করে। এতে সিঙ্গাপুরগামী পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘জাহাজটি অনুমোদনবিহীন কার্গো বহন করছিল, যা নিয়মের লঙ্ঘন।’ তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিচারিক আদেশের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট জাহাজটির গতিবিধি নজরদারিতে নেয় এবং পরে সেটি আটক করে। জাহাজটির বাণিজ্যিক নাম তালারা, আর এটি মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকা বহন করছিল।’
ভ্যাঙ্গার্ড টেকের এলি শাফিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আসলে জাহাজটি আটক করার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।’
তিনি বলেন, ‘ইরান এটিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চাইবে, যদিও এর পেছনে কৌশলগত উদ্দেশ্যই থাকতে পারে।’
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, মূলত দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর পুনরায় নানা নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বর মাসে কার্যকর করা হয়। এর পেছনে কারণ ছিল পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়া।
মাসখানেক আগে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, তা ভেস্তে যায়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এসব আলোচনা পুরোপুরি থেমে যায়।
তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে অনেক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর বদলে তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে সরে যান এবং পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর মধ্যে ছিল ইরানি তেল রপ্তানির ওপর বাধাও। এতে ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়ে।

