তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, জাপানের দ্বীপের কাছে চীনা কোস্টগার্ডের টহল
রবিবার চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজবহর সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় টহল দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ একে ‘অধিকার সংরক্ষণের নিয়মিত অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে।
সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান নিয়ে যেভাবে মন্তব্য করেছেন, তার জের ধরেই বেইজিং-টোকিওর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
৭ নভেম্বর পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে সানায়ে তাকাইচি বলেন, ‘তাইওয়ানের ওপর চীনের কোনো সম্ভাব্য হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।’ তার এই বক্তব্যে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং মন্তব্যটি প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দেয়।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা কখনোই অস্বীকার করেনি। তবে তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দ্বীপটি জাপানের ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে।
চীনা কোস্ট গার্ড জানায়, তাদের ১৩০৭ নম্বর জাহাজবহর ‘দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জের’ (জাপানের ভাষায় সেনকাকু) জলসীমায় টহল দিয়েছে। তারা একে ‘আইনি ও যৌক্তিক টহল’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং বলে, এতে চীনের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
চীন ও জাপান বহুবার এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে গেছে। চীন একে বলে দিয়াওইউ, আর জাপান বলে সেনকাকু।
এই বিষয়ে বেইজিংয়ে অবস্থিত জাপানি দূতাবাস থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্যের পর চীন একাধিকবার জাপানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল বলেন, ‘যে নোংরা মাথা বের হয়ে আসে, তা কেটে ফেলতে হয়।’ এই মন্তব্যের প্রতিবাদে টোকিও আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে।
এরপর চীন দুই বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জাপানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জাপানের যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য।’
শুক্রবার চীন তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়। জবাবে টোকিও ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার’ ইঙ্গিত দেয়, তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
শনিবার তিনটি চীনা বিমানসংস্থা জানায়, জাপানে যাওয়ার টিকিট বিনা খরচে পরিবর্তন বা ফেরত দেওয়া যাবে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩০টি চীনা সামরিক বিমান ও ৭টি নৌবাহিনীর জাহাজ দ্বীপটির চারপাশে সক্রিয় থাকতে দেখেছে।
এ ধরনের চীনা সামরিক টহল প্রায় প্রতি মাসেই ঘটে। তাইপে বলছে, এটি চীনের একটি দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরির কৌশল।
তাইওয়ানের সরকার বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল তাইওয়ানের জনগণ।
জাপানের নেতারা এত দিন তাইওয়ান প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজায় রাখাই ছিল তাদের অবস্থান।

