ভেনেজুয়েলা উত্তেজনার মধ্যে লাতিন জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী হিসেবে পরিচিত ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের অধীন এলাকায় প্রবেশ করেছে। এই অঞ্চল লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে রণতরী ও তার নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপের মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতে অসংখ্য যুদ্ধবিমান ও ডেস্ট্রয়ার জাহাজ রয়েছে। তাদের আগমন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার জানিয়েছে, তারা স্থল, নৌ, আকাশ, নদী ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মিলিশিয়াদেরও ‘বৃহৎ মোতায়েন’ শুরু করেছে—নিজেদের উপকূলের কাছাকাছি মার্কিন নৌ উপস্থিতির জবাবে।
মার্কিন এই রণতরী এখন পুয়ের্তো রিকোয় অবস্থানরত অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি—অনেকে বলছেন, ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক জড়ো হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে। তার দাবি, ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে মাদক পাচার রোধ করাই উদ্দেশ্য। সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চার হাজারের বেশি নাবিক ও ডজনেরও বেশি ট্যাকটিক্যাল বিমান নিয়ে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এর আগমন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্ত, নজরদারি ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়াবে।
তার ভাষায়, ‘এই বাহিনী মাদক পাচার রোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্র দুর্বল ও ভেঙে দিতে বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।’
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এই হামলা ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন মূলত মাদুরোকে চাপের মুখে ফেলতেই—যাতে তিনি বিতর্কিত নির্বাচনের পর পদ ছাড়েন।
মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘একটি নতুন যুদ্ধ তৈরি করছে’। তার মতে, এই নৌ মোতায়েন ‘গত একশ বছরে আমাদের মহাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’।
মঙ্গলবার, মার্কিন নৌবাহিনী রণতরীর আগমন নিশ্চিত করার আগে, ভেনেজুয়েলা সরকার নিজেদের সামরিক প্রস্তুতির নতুন ধাপ শুরু করেছে বলে ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক নেতাদের ভাষণ প্রচার করা হয়।
রবিবার কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর সম্মেলন (সেলাক) শেষে ৬০ দেশের মধ্যে ৫৮টি দেশ এক যৌথ ঘোষণায় বলেছে—‘শক্তি প্রয়োগ বা শক্তির হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ’ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সেখানে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শুধু ভেনেজুয়েলা ও নিকারাগুয়া ওই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেনি। মাদুরো সরকারের ধারণা ছিল, দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও তীব্র নিন্দা জানাবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা শান্তির অঞ্চল। এখানে যুদ্ধ চাই না। ভেনেজুয়েলার সংকট রাজনৈতিক, এর সমাধানও রাজনীতিতেই হতে হবে।’

