আসছে সুপার টাইফুন ফাং-ওয়ং, ফিলিপাইনে ৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
সুপার টাইফুন ফাং-ওয়ং (স্থানীয়ভাবে যার নাম ‘উওয়ান’) আঘাত হানার আগেই ফিলিপাইনের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে ৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লুজোন দ্বীপজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অনেক জায়গার অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে মেট্রো ম্যানিলাও রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফাং-ওয়ং রবিবার রাতেই অরোরা প্রদেশে আছড়ে পড়তে পারে। এই ঝড়টি আঘাত হানছে এমন সময়, যখন ফিলিপাইন এখনো টাইফুন কালমেগির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সেই টাইফুনে দেশটিতে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়, এবং প্রতিবেশী ভিয়েতনামেও প্রাণহানি ঘটে।
ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে, যা দমকা হওয়ায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। ইতোমধ্যে লুজোনের অনেক জায়গায় প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা সংকেত, অর্থাৎ ‘সংকেত নম্বর ৫’ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে কাতান্দুয়ানেস, কামারিনেস সুর ও অরোরা প্রদেশ রয়েছে। মেট্রো ম্যানিলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে ‘সংকেত নম্বর ৩’ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো সবাইকে নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালাতে গেলে তা পুলিশের, সেনা সদস্যদের, দমকলকর্মী বা কোস্টগার্ড সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।’
এটাই চলতি বছরের ২১তম ঝড়, যদিও সাধারণত দেশটিতে বছরে ২০টি ঝড় আঘাত হানে। ফাং-ওয়ংয়ের কারণে দুর্যোগ মোকাবিলার কাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ এখনো কালমেগির ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং পুনর্গঠন কাজ চলছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা রাফি আলেহান্দ্রো জানিয়েছেন, এবার যেন প্রাণহানি না হয়—এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীও তাদের প্রায় ২ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করেছে।
উত্তর লুজোনের ইসাবেলায় একটি বাস্কেটবল মাঠকে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সেখানকার এক বাসিন্দা ক্রিস্টোফার সানচেজ বলেন, ‘খবর পেয়েছি টাইফুনটি অনেক শক্তিশালী, তাই আগেই চলে এসেছি। আমাদের বাড়ি নদীর পাশে, প্রতিবার ঝড় আসলেই এখানে আশ্রয় নিই। আগের ঝড়ে পানির উচ্চতা মানুষের মাথার উপরে চলে গিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছি। নাতি-নাতনিসহ পুরো পরিবারকে নিয়ে এখানে এসেছি।’
ইসাবেলায় তখন আকাশ ছিল মেঘলা, বাতাসে গাছ দুলছিল, আর গাড়ির কাচের ওপর বৃষ্টির ধারা চলাচলকে কঠিন করে তুলছিল বলে জানান এক রয়টার্স সাংবাদিক।
কামারিনেস সুর থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, মানুষ ট্রাকে ওঠার আগে হালকা নৌকায় করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে। পূর্ব ভিসায়াস এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

