Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা আবার শুরু করতে চান

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম

ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা আবার শুরু করতে চান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র আবার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, চীন দ্রুত তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে। এই কারণেই, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক আলোচনার আগে তিনি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ওই বৈঠকে শুল্ক এবং বিরল খনিজ নিয়ে একটি চুক্তি হয়।

এর আগে ট্রাম্প রাশিয়াকেও সমালোচনা করেন নতুন পারমাণবিকচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ‘বুরেভেস্তনিক’ পরীক্ষার জন্য।

ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নামে তার নিজের প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘অন্যান্য দেশের পরীক্ষার কারণে, আমি যুদ্ধবিভাগকে বলেছি—আমরাও আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করি।’ ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধবিভাগ’ করেছিল।

তিনি লেখেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে, কিন্তু চীন পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের সমকক্ষ হয়ে যাবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে ৩৭০০-এর বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যেখানে চীনের সংখ্যা মাত্র ৪০০-এর মতো। তবে চীন ধীরে ধীরে তার ভাণ্ডার বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, তারা একটি নতুন পারমাণবিকচালিত ড্রোন ‘পোসাইডন’ সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। এটি গভীর সমুদ্রের নিচ দিয়ে চলতে পারে এবং পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম।

যদিও এখন পর্যন্ত এসব রুশ অস্ত্রের পরীক্ষায় কোনো পারমাণবিক ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়নি।

বিশ্বের অনেক দেশ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ‘সমগ্র পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি’ অনুযায়ী পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষর করলেও কখনো অনুমোদন করেনি, তাই আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

চুক্তির বাইরে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছয়বার পারমাণবিক পরীক্ষা করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না। তারা এটিকে ‘অস্পষ্টতা নীতি’ বলে মেনে চলেছে।

চুক্তি না মানা বা পুরনো চুক্তি থেকে সরে আসার প্রবণতা পারমাণবিক প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। রাশিয়া ২০২৩ সালে চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। ইরানও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া চুক্তি অনুসারে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে অঙ্গীকার করতে হয়—তারা অস্ত্র হস্তান্তর করবে না এবং অন্যদের অস্ত্র বানাতে সাহায্য করবে না।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পুরনো বোমা সরিয়ে ফেললেও নতুন অস্ত্র তৈরি বন্ধ করেনি। চুক্তির অভাবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পারমাণবিক পরীক্ষা আবার শুরু হলে বিশ্ব নতুন এক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন