ট্রাম্প ও তাকাইচির চুক্তি: দুর্লভ খনিজের সরবরাহ নিরাপদে জোর
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের এক ‘সোনালি যুগ’ গড়ে তুলবেন। টোকিওতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
এশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে জাপানে অবস্থান করছেন ট্রাম্প। দুই নেতা একত্রে একটি চুক্তি সই করেন, যার লক্ষ্য হলো — দুর্লভ খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে যৌথ কাঠামো গড়ে তোলা। এই খনিজগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সম্প্রতি চীন এসব খনিজ রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ অর্থনৈতিক নীতিমালা ও সমন্বিত বিনিয়োগের মাধ্যমে এই খাতে বৈচিত্র্যময়, উন্মুক্ত ও ন্যায্য বাজার তৈরিতে কাজ করবে। এতে উভয় দেশই এই খনিজের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও টেকসই করতে পারবে।
চুক্তির ঘোষণার আগে তাকাইচি বলেন, ‘আমি এমন একটি নতুন সোনালি যুগের সূচনা করতে চাই, যেখানে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।’ এরপর দুই নেতা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেন।
বৈঠকের আগে জানা যায়, তাকাইচি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেবেন। ট্রাম্পের দাবি, তিনি গাজা এবং থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।
তাকাইচি, যিনি সম্প্রতি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ‘স্থায়ী বন্ধুত্বের’ কথা স্মরণ করেন। ট্রাম্প বলেন, আবে তাকাইচির প্রশংসা করতেন বহু আগেই।
দুই নেতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য ও নিরাপত্তা। তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবা আমেরিকায় বিনিয়োগের বিপরীতে শুল্ক ছাড় পান। এখন তাকাইচি আরও মার্কিন পণ্য আমদানির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চান।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধি বাড়াবে এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধির পথে সহায়ক হবে।
তাকাইচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা সম্পর্ক ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জোট’। ট্রাম্প বলেন, জাপান যা কিছু করবে, যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি দারুণ কাজ করবে, আর আমরা দারুণ সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

