Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ভারতে বাসে আগুন লেগে নিহত ডজনের বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৯ এএম

ভারতে বাসে আগুন লেগে নিহত ডজনের বেশি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুলে শুক্রবার ভোররাতে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। আরও ৯ জন এখনও নিখোঁজ। হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে একটি বিলাসবহুল বাস, একটি দুই-চাকার গাড়িকে ধাক্কা দিলে আগুন ধরে যায় এবং সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর এনডিটিভির।

তবে টাইমস অব ইনিডয়া বলছে, ‘আগুনে ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

বাসটিতে মোট ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কুরনুল জেলার উল্লিন্দাকোন্ডা এলাকায়, জাতীয় সড়ক ৪৪-এ।

বাসটি হায়দরাবাদ থেকে রাত প্রায় ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে। রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে, কুরনুলের কাছে এসে একটি বাইককে ধাক্কা দেয়। পুলিশ সন্দেহ করছে, বাইকটি বাসের নিচে আটকে গিয়ে স্পার্কের সৃষ্টি করে, সেখান থেকেই আগুন লাগে। চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাসটিকে গ্রাস করে ফেলে।

কুরনুলের পুলিশ সুপার বিক্রান্ত পাটিল বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে কাবেরি ট্রাভেলসের একটি বাস হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিল। সেটি একটি বাইককে ধাক্কা দেয়, আর বাইকটি বাসের নিচে আটকে যায়। সম্ভবত এখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং তারা সঠিক কারণ নির্ধারণে কাজ করছে। যেহেতু এটি একটি এসি বাস ছিল, তাই জানালা ভেঙে বের হতে হয়েছে। যারা জানালার কাচ ভাঙতে পেরেছেন, তারা প্রাণে বেঁচেছেন।’

যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, বাসটিতে চালক ও কর্মচারীসহ অন্তত ৪০ জন ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে সময়মতো বের হতে পারেননি।

আগুন দেখে কিছু যাত্রী জানালার কাচ ভেঙে বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে বেরিয়ে আসেন। ফরেনসিক দল এখনও খুঁজে দেখছে, কেউ ভেতরে আটকে আছেন কি না।

২৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে বা নিজেরা বাইরে আসতে পেরেছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অধিকাংশই বাস থেকে লাফানোর সময় আহত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে বাইক আরোহীও রয়েছেন। ৯ জন এখনও নিখোঁজ, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

মাটিতে পড়ে থাকা বাসটির পোড়া কাঠামোর ছবি ফুটে উঠেছে নানা খবরে।

নন্দিয়ালের সাংসদ বাইরেড্ডি শাবরী বলেন, ‘বাসটি দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, যিনি উল্টো দিক থেকে আসছিলেন। তিনি বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কিছুই করতে পারেননি, কারণ বাসটি মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হয়। আমরা প্রায় ১৯ জনকে বাঁচাতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মরদেহ চেনা যাচ্ছে না, কারণ তারা পুরোপুরি পুড়ে গেছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

অন্ধ্রপ্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী রামপ্রসাদ রেড্ডি জানান, বাসের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ‘গত দুই মাসে বাসটি নির্ধারিত শর্ত মেনেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তথ্য অনুযায়ী, বাসটি ওডিশায় নিবন্ধিত ছিল। এটি সাত বছর দুই মাস পুরনো। এর ফিটনেস সার্টিফিকেট বৈধ রয়েছে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত।

এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিতে ‘চরম দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের প্রতি আমার সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক জানিয়ে বলেন, ‘কুরনুল জেলার চিন্না তেকুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা শুনে আমি হতবাক। আমরা আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ওয়াইএসআরসিপি সভাপতি ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি বলেছেন, ‘এই দুর্ঘটনা হৃদয়বিদারক এবং আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।’ তিনি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

তেলুগু দেশম পার্টির সাধারণ সম্পাদক লোকেশ নারা বলেন, ‘এই ভয়াবহ ঘটনায় যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

ভারত রাষ্ট্র সমিতির কার্যকরী সভাপতি কেটি রামা রাও নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

মাত্র ১০ দিন আগে, ১৫ অক্টোবর রাজস্থানে একটি নতুন বাসেও ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ এক ঘটনা। জয়সালমের থেকে যোধপুর যাওয়ার পথে একটি বেসরকারি বাসে আগুন ধরে যায়, এবং ২০ জন পুড়ে মারা যান।

বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে বাসটি যাত্রা শুরু করে। জয়সালমের-যোধপুর হাইওয়েতে হঠাৎ করে বাসের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া বেরোতে থাকে। চালক বাসটি রাস্তায় দাঁড় করান, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যাত্রীরা যখন একমাত্র দরজা দিয়ে বেরোতে চাইলেন, তখন সেটি আটকে ছিল।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন