কাফালা বাতিল: শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগের দুয়ার খুলছে সৌদি আরবে
এই সংস্কার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ। (রয়টার্স / ফাইল ছবি)
সৌদি আরব ঐতিহাসিকভাবে তাদের বহুল সমালোচিত ‘কাফালা’ বা অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এতে করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোটি শ্রমিকের জন্য খুলে যাচ্ছে নতুন অধিকার ও স্বাধীনতার সুযোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশের লাখো প্রবাসী কর্মীর জীবনে এ সিদ্ধান্ত আনবে এক বড় পরিবর্তন।
২০২৫ সালের জুনে ঘোষিত এই সংস্কার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’–এর অংশ, যার লক্ষ্য দেশটির অর্থনীতিকে আধুনিক করা, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। নতুন এই আইনে সৌদিতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি শ্রমিক—যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি—আর আগের মতো নিয়োগকর্তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকবেন না।
এর আগে কাফালা ব্যবস্থায় শ্রমিকদের একটি সৌদি অভিভাবক বা স্পনসর থাকতে হতো, যিনি তাদের ভিসা ও আবাসিক অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। ফলে তারা চাকরি পরিবর্তন, দেশ ত্যাগ বা এমনকি বসবাসের অনুমতি নবায়নও করতে পারতেন না স্পনসরের অনুমতি ছাড়া। এই ব্যবস্থার কারণে বহু শ্রমিক বেতন না পাওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হতেন।
এখন থেকে নতুন নিয়মে শ্রমিকরা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বা প্রয়োজনীয় নোটিশ দিয়ে অন্য চাকরিতে যেতে পারবেন। তারা চাইলে বিদেশ ভ্রমণও করতে পারবেন, কোনো স্পনসরের অনুমতি ছাড়াই।
সৌদি সরকার বলছে, এই পরিবর্তন শুধু মানবাধিকার উন্নয়ন নয়, বরং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড মেনে চলার অংশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) দীর্ঘদিন ধরে কাফালা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও ফিলিপাইনের লাখো শ্রমিকের জন্য এটি এক বড় স্বস্তির খবর। সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন থেকে আগের তুলনায় সহজে চাকরি বদলাতে পারবেন, অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাবেন, এবং বেতন বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত নির্যাতন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কর্মপরিবেশ হবে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও মানবিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনটি কার্যকর করতে সৌদি সরকারের কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ ডিজিটাল প্রক্রিয়া জরুরি। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই পরিবর্তন বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

