Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে পড়ল কার্গো বিমান

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৯ এএম

হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে পড়ল কার্গো বিমান

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় দুইজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে দুবাই থেকে আসা একটি কার্গো বিমান অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে, একটি নিরাপত্তা টহল গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং সেটিকে সোজা সমুদ্রে ঠেলে দেয় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি ছিল গত ২৫ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমানবন্দর দুর্ঘটনার অংশ। বিমানটি নিজেও পানিতে আংশিক ডুবে যায়। তবে এতে থাকা চারজন ক্রু নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন।

বিমানবন্দরের অপারেশনসের নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ইউ বলেন, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা কর্মীদের পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও তারা তখন আর শ্বাস নিচ্ছিলেন না। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, আরেকজন মারা যান হাসপাতালে।

দুর্ঘটনার শিকার বিমানটি তুরস্কভিত্তিক মালবাহী পরিবহন সংস্থা এসিএটি এয়ারলাইন্স পরিচালিত একটি ফ্লাইট, যা এমিরেটসের হয়ে চলছিল বলে জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক এই সংস্থা।

স্টিভেন ইউ জানান, এখনো দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে। আবহাওয়া, রানওয়ের অবস্থা, বিমান এবং বিমানের ক্রু—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার হংকং সময় ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় রবিবার ১৯:৫০)।

লাইভএটিসি ডটনেট-এ পাওয়া এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের একটি রেকর্ডিং পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাইলট রানওয়ে ০৭এলে নামার পরিকল্পনা জানিয়ে সম্মতি দেন, কিন্তু কোনো কারিগরি সমস্যার কথা জানাননি। কয়েক মিনিট পর এক নারী কন্ট্রোলার বলেন, ‘এয়ারফিল্ডে একটি ঘটনা ঘটেছে।’

হংকংয়ের এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটির প্রধান মান কা-চাই বলেন, ট্রাফিক কন্ট্রোল পাইলটকে উত্তর রানওয়েতে নামতে নির্দেশ দিয়েছিল, তবে পাইলটের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্যের অনুরোধ আসেনি।

স্টিভেন ইউ বলেন, নিরাপত্তা টহল গাড়িটি রানওয়ের বাইরে নির্ধারিত সড়কে চলছিল এবং সেটি রানওয়ের মধ্যে প্রবেশ করেনি। তিনি বলেন, বিমানটি হঠাৎ বাম দিকে ঘুরে গিয়ে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়, যা ছিল ‘অস্বাভাবিক পথ’।

দুর্ঘটনার পর তোলা ছবিতে দেখা যায়, এয়ারএসি‌টি চিহ্নিত একটি কার্গো বিমান বিমানবন্দরের সী-বাঁধের পাশে আংশিক পানিতে ডুবে আছে, বিমানের স্লাইড নামানো এবং নাক ও লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

হংকংয়ের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি ‘উত্তর রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে সমুদ্রে পড়েছে’।

এমিরেটস জানিয়েছে, ফ্লাইট ইকে৯৭৮৮ ছিল বোয়িং ৭৪৭ মডেলের কার্গো বিমান, যা তারা এসিএটি এয়ারলাইন্স থেকে ওয়েট লিজের আওতায় চালাচ্ছিল। বিমানটিতে কোনো কার্গো ছিল না এবং সব ক্রু নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়।

বোইং এবং এসিএটি এয়ারলাইন্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ৩২ বছর পুরোনো এবং এক সময় যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হতো, পরবর্তীতে এটি কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়।

ইউ জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। নিহত দুই কর্মী বিমানবন্দরে যথাক্রমে সাত ও বারো বছর ধরে কাজ করছিলেন।

এটি হংকংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমানবন্দর দুর্ঘটনা, ১৯৯৯ সালে চায়না এয়ারলাইন্সের একটি বিমান অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে ৩১৫ জন যাত্রীর মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন