Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩১ এএম

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দোহায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। তারা আগামী ২৫ অক্টোবর আবার দেখা করে আলোচনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে—রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ।

পাক-আফগান সীমান্তে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে শনিবার পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, খাওয়াজা আসিফের নেতৃত্বে, দোহা যায়। সেখানে আফগান তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়, যার লক্ষ্য ছিল সীমান্ত-পারাপার হামলা বন্ধ করা এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দূর করা। কাতারের সহায়তায় আয়োজিত এই আলোচনা চলাকালীন পাকিস্তান আফগানিস্তানে গুল বাহাদুর গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর আগে দুই দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।

এক্স-এ দেওয়া পোস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে যে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছিল, তা এখনই বন্ধ হবে। দুই প্রতিবেশী দেশ একে অপরের ভূখণ্ডের প্রতি সম্মান দেখাবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রতিনিধি দল ২৫ অক্টোবর ইস্তানবুলে আবার দেখা করবে।

মন্ত্রী লেখেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞ কাতার ও তুরস্কের প্রতি, যারা আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ।’

পিটিভি নিউজ-এর এক্স অ্যাকাউন্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলোচনায় শুধু যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার কাঠামো তৈরির দিকেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে দুই দেশ ভবিষ্যতে আবার আলোচনায় বসবে।

‘এই উদ্যোগ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে,’ বলা হয় পোস্টে।

আলোচনাগুলো কাতার সরকারের আয়োজনে এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় হয়। বৈঠক চলে প্রায় ১৩ ঘণ্টা।

শনিবার, যখন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল, তখন পাকিস্তান আবারও জানায়—তারা সংঘর্ষ চায় না। তবে পাকিস্তান আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষকে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানায় এবং বলে—সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এমন বক্তব্য দেওয়া হয় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কাতারের এই মধ্যস্থতা প্রশংসার যোগ্য এবং এই আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতি ফিরবে বলে তারা আশাবাদী।

১১ অক্টোবর রাতে আফগান বাহিনী কোনো প্ররোচনা ছাড়াই পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সৈন্য শহিদ হন। পাল্টা হামলায় নিহত হয় ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী—এমনটি জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা, আইএসপিআর।

এরপর পাকিস্তান কন্দহার ও কাবুলে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়, যেসব স্থানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও সীমান্ত পোস্ট ছিল। একই সঙ্গে কাবুলকে আহ্বান জানায়, যেন তারা তাদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

আফগানিস্তান দাবি করে, তারা এই হামলা করেছে ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আগেই তাদের এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকারও করেনি, স্বীকারও করেনি।

১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ফের সংঘর্ষ শুরু হয় কুররম সীমান্তে। আফগান তালেবান এবং ‘ফিতনা আল খারিজ’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময়ে জড়ায়। পরদিন বুধবার পাকিস্তান আবারও কন্দহার ও কাবুলে ‘নির্ভুল হামলা’ চালায়।

‘ফিতনা আল খারিজ’ হচ্ছে নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের জন্য ব্যবহৃত একটি রাষ্ট্রীয় শব্দ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে শুক্রবার সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়—এমন তথ্য দেন একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র।

তবে সেই দিনই আবারও পাকিস্তান আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব হামলার ঘটনা ঘটে আঙ্গুর আড্ডা অঞ্চল ও আফগানিস্তানের উরগুন ও বর্মাল জেলার বিভিন্ন জায়গায়, যেখানে নিষিদ্ধ গুল বাহাদুর গোষ্ঠীর আস্তানা ছিল।

এই অভিযানগুলো ঘটে ঠিক তখনই, যখন উত্তর ওয়াজিরিস্তানের একটি সামরিক স্থাপনায় বোমা ও গুলির হামলা হয়। ওই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক চরম খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বারবার পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে, নিষিদ্ধ টিটিপি যখন ২০২২ সালের নভেম্বরে ইসলামাবাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিল করে, তখন থেকেই খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।

যদিও মাঝে মধ্যে উভয় পক্ষ সংলাপে বসার চেষ্টা করেছে, কিন্তু উত্তেজনা থেকেই গেছে। কাবুল বরাবরই দাবি করে, তাদের মাটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় না। কিন্তু পাকিস্তান এ দাবি মানে না, কারণ টিটিপি নেতৃত্বাধীন হামলা এখনও দেশটিতে অব্যাহত রয়েছে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন