Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন জেলেনস্কি

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০২:০৩ পিএম

বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন জেলেনস্কি

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প জানালেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ‘খুব ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে এবং তারা বুদাপেস্টে আরেকটি সম্মেলনে বসতে সম্মত হয়েছেন।

জেলেনস্কির সফরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা। ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন হয়তো ইউক্রেনকে টমাহক দিতে পারে—যা হলে কিয়েভের হাতে চলে আসবে এমন একটি অস্ত্র, যার নাগাল মস্কো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্পের নরম সুর ইউক্রেনকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ইউরোপেও নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করতে পারে।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, পুতিন ‘পছন্দ করেননি’ যখন তিনি ইউক্রেনকে টমাহক দেওয়ার কথা তুলেছিলেন। তবে ট্রাম্প পরে যোগ করেন, ‘আমরাও এগুলো দরকার, তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় দেড় হাজার মাইল। সাধারণত এগুলো জাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়, যা ইউক্রেনের নেই। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম আনুমানিক এক দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার।

পুতিনের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বছরে এসে ট্রাম্প গাজায় শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করার পর এখন রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে চান। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে আবারও পুতিনের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে গত আগস্টে আলাস্কায় তাদের বৈঠক কোনো ফল আনেনি।

যদিও টমাহক সরবরাহের ধারণা প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এর সংখ্যা সীমিত। বিশ্লেষকদের মতে, ২০ থেকে ৫০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নেই। সাম্প্রতিক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার অনুমতিও দিয়েছে, যাতে তারা নিজস্ব ড্রোন ও মার্কিন ‘আটাকমস’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালাতে পারে। এতে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট ও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, টমাহক যুক্ত হলে ইউক্রেনের সেই কৌশল আরও শক্তিশালী হবে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসওয়াফ সিকোরস্কি বলেছেন, রাশিয়ার বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে বিমান প্রতিরক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন, তাই এসব ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হতে পারে।

তবে ট্রাম্প আসলেই টমাহক সরবরাহ করবেন, নাকি তা দিয়ে শুধু পুতিনকে চাপ দিচ্ছেন—এই প্রশ্ন থেকেই গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনকে টমাহক দেওয়া মানে সংঘাত ‘নতুন মাত্রায় উত্তেজনা’ সৃষ্টি করবে।

জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে পৌঁছে সাংবাদিকদের বলেন, টমাহকের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মস্কো সংলাপে ফেরার তাগিদ দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সাবেক কূটনীতিক ভ্লাদিমির ফ্রোলভ মনে করেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা পুতিনকে ভয় দেখানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া এটাকে ব্লাফ বলেই মনে করছে।’

পুতিন গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিলেন, টমাহক সরবরাহ করা হলে সেটি হবে ‘সংঘাতের এক নতুন ধাপ’। মস্কোর এক সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে টমাহকের প্রভাব নিয়ে অতটা চিন্তিত নয়, বরং সেটি প্রতীকীভাবে কী বার্তা দেয়, সেটাই বেশি উদ্বেগের।

তার কথায়, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র টমাহক দেয়, তবে সেটা হবে সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত যে ট্রাম্প পুতিনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন—এবং সেটিই রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন