আল জাজিরার বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নতুন বন্দর ফি: ফের শুরু হচ্ছে পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যযুদ্ধ?
শোলা লাওয়াল
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৫৬ পিএম
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আবার নতুন করে বাণিজ্যিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশ এবার তাদের বন্দরগুলোর মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। চীন বিরল ধাতুর রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ায় চীনা জাহাজের ওপর অতিরিক্ত ফি বসিয়েছে। এর জবাবে চীনও আমেরিকান জাহাজের ওপর ফি বসিয়েছে।
এই ফি ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রপথের বাণিজ্য এখন দুই দেশের নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের তৈরি, পরিচালিত বা মালিকানাধীন যে কোনো জাহাজ আমেরিকার বন্দরে ঢুকলে প্রতি নেট টনে ৫০ ডলার ফি দিতে হবে। আগামী দিনে এই ফি বেড়ে ১৪০ ডলার হবে। একইভাবে চীনের তৈরি জাহাজ হলে বা কনটেইনার বহন করলে আলাদা হারে ফি ধার্য করা হয়েছে।
চীনও ঘোষণা করেছে, আমেরিকার তৈরি, পরিচালিত বা মালিকানাধীন জাহাজ চীনের বন্দরে ঢুকলে প্রতি নেট টনে ৪০০ ইউয়ান ফি দিতে হবে। এই হার আগামী দিনে ১১২০ ইউয়ানে পৌঁছাবে।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ভুল এবং বৈষম্যমূলক নীতির জবাবে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চীন দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাতা সংস্থা হানহো ওশেন-এর পাঁচটি শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। চীনের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলো আমেরিকার তদন্তে সহযোগিতা করেছে।
চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা দেশ। ২০২৪ সালে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চীনেই তৈরি হয়েছে। আর আমেরিকা মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ জাহাজ তৈরি করেছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশন সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করে। শুধু তাই নয়, তারা সামরিক যুদ্ধজাহাজও তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তা দিয়ে জাহাজ শিল্পে অগ্রগতি করেছে এবং এই প্রক্রিয়া অন্য দেশগুলোর জন্য অবিচারমূলক।
এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আমেরিকার জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে। তিনি একটি আলাদা ‘জাহাজ নির্মাণ দপ্তর’ তৈরির কথা বলেছেন।
এই ঘোষণার পর আমেরিকার জাহাজ নির্মাতা সংগঠন ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এতে করে প্রতিরক্ষা খাত মজবুত হবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই দুই দেশের মধ্যে যদি এভাবে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ চলতে থাকে, তাহলে তা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্ববাণিজ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
চীন বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চায়, তাহলে চীন শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সংলাপের পথ বেছে নেয়, তাহলে চীন প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও চিন্তিত। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
