Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৮ এএম

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন

ইসরায়েল সরকার শুক্রবার হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করেছে। এর ফলে গাজায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

চুক্তিটি অনুমোদিত হয় শুক্রবার ভোরে, প্রায় একদিন পর যখন মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। এই উদ্যোগের পেছনে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি গত দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই পরিকল্পনা এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর ইংরেজি ভাষার ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘সরকার এইমাত্র একটি কাঠামো অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে জীবিত ও মৃত—সব জিম্মিদের মুক্তি সম্ভব হবে।’

দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে গাজায় ৬৭,০০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ শুধু ইসরায়েলকেই আন্তর্জাতিক মহলে বিচ্ছিন্ন করেনি, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ওলটপালট করে দিয়েছে। ইরান, ইয়েমেন, লেবাননও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কেও চাপ পড়ে, যেখানে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চুক্তিতে পৌঁছাতে তাগিদ দেন।

চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়পক্ষেই উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এটি যুদ্ধ শেষের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খালিল আল-হাইয়া বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে ‘যুদ্ধ শেষ’।

একজন ইসরায়েলি সরকারি মুখপাত্র বলেন, চুক্তি অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

বর্তমানে ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি জীবিত অবস্থায় গাজায় রয়েছেন বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে, ২৬ জনকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, আর ২ জনের অবস্থান জানা যায়নি। হামাস জানিয়েছে, মৃতদের মরদেহ উদ্ধার করতে সময় বেশি লাগতে পারে।

চুক্তি কার্যকর হলে, গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে ট্রাক ঢুকবে। সেখানে বহু মানুষ তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তবে চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এক ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হামাস চায়, যেসব ফিলিস্তিনি নেতারা ইসরায়েলে বন্দি আছেন, তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।

চুক্তির বাকি ধাপ, যেমন গাজা ভবিষ্যতে কে শাসন করবে এবং হামাসের অস্ত্রত্যাগের বিষয়, তা এখনো আলোচনার বাইরে। নেতানিয়াহু নিজেও চাপে রয়েছেন, কারণ তাঁর সরকারে বহু সদস্য হামাসের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করেন। কট্টরপন্থী নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, যদি হামাস ভেঙে না দেওয়া হয়, তিনি সরকার ভাঙার পক্ষে ভোট দেবেন।

তবু যুদ্ধ শেষের ঘোষণা এবং জিম্মিদের ফিরে পাওয়ার আশায় অনেকেই আনন্দে ভেসেছেন।

খান ইউনুসে আবদুল মাজিদ আব্দ রাব্বো বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, যুদ্ধ থেমেছে, রক্তপাত শেষ হয়েছে। গোটা গাজা, আরব দুনিয়া, এমনকি পুরো দুনিয়াই আজ খুশি।’

তেল আবিবে ‘জিম্মি স্কয়ারে’ ইনাভ যাওগাউকার বলেন, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না… অনুভূতিটা বোঝানো কঠিন… এটা পাগলামি লাগছে।’ তাঁর ছেলে মাতান এখনো গাজায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত ছিল। তবে নিহতের সংখ্যা আগের মতো ভয়াবহ নয়। বৃহস্পতিবার দুইটি হামলায় সাতজন নিহত হন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার অঞ্চল সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। সম্ভবত মিশরে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকবেন। ইসরায়েলি সংসদের স্পিকার আমির ওহানা তাঁকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা ২০০৮ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম ভাষণ হবে।

এই চুক্তিকে ট্রাম্পের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে না পারলেও, গাজায় যুদ্ধবিরতির এই পদক্ষেপ তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো প্যারিসে বৈঠকে বসেছে, যাতে যুদ্ধ থেমে গেলে গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পুনর্গঠন সহায়তা পাঠানো যায়। যুক্তরাষ্ট্র ২০০ সৈন্য পাঠাবে, যাদের কেউ গাজায় প্রবেশ করবে না। তাদের সঙ্গে মিশর, কাতার, তুরস্ক ও সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন এক হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করে, যা দুই বছর ধরে চলেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন