Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মিশরে যাচ্ছেন মার্কিন দূত

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫০ এএম

গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মিশরে যাচ্ছেন মার্কিন দূত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ মিশরে যাচ্ছেন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যোগ দিতে—এ খবর জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সব অবশিষ্ট জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ দূতদের শনিবার মিশরে পাঠিয়েছেন জিম্মি বিনিময় প্রক্রিয়ার কারিগরি দিকগুলো চূড়ান্ত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করতে। এর একদিন আগেই হামাস ঘোষণা দেয়, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন একদম কাছাকাছি, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত।’

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার কায়রোতে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দলগুলো বৈঠকে বসবে—ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি বিষয়টি নিয়েই হবে আলোচনা।

এই আলোচনা শুরু হচ্ছে এমন এক সময়, যখন মাত্র এক মাস আগে কাতারে হামাসের আলোচকদের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হয়, যদিও হামলার মূল লক্ষ্যরা বেঁচে যান।

হামাস যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিলেও শনিবারও গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন গাজা সিটির আল-তুফাহ এলাকায় একটি ঘরে বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন মারা যান, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আরও ২০ জন নিখোঁজ এবং বহু মানুষ আহত। একই দিনে কেন্দ্রীয় গাজা সিটিতে এক বেকারির কাছে ড্রোন হামলায় ডজনখানেক মানুষ মারা যান বলে জানিয়েছে সরকারি সংবাদসংস্থা ওয়াফা।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দখলদার বাহিনীর এই অব্যাহত বোমা হামলা ও গণহত্যা নেতানিয়াহুর কথিত “নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান হ্রাসের” দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করছে।’

এর আগে ইসরায়েলি সেনা রেডিও জানিয়েছিল, গাজায় অভিযান এখন থেকে ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ে’ নামিয়ে আনা হবে, সৈন্যরা শুধু ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলাতেই যুক্ত থাকবে। ট্রাম্পও তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছিলেন, ‘ইসরায়েল আপাতত বোমা বর্ষণ বন্ধ করেছে—এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ তবে একই পোস্টে তিনি হামাসকে সতর্ক করে দেন, ‘বিলম্ব আমি সহ্য করব না। এখনই সমঝোতায় আসতে হবে, নয়তো সব বাজি উল্টে যাবে।’

নেতানিয়াহু শনিবার এক টেলিভিশন বার্তায় বলেন, ‘আশা করছি, আসন্ন সুকোট উৎসবের মধ্যেই আমরা সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে পারব।’ তিনি আরও জানান, ‘হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে—ট্রাম্পের পরিকল্পনার মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে, আর তা সম্ভব না হলে সামরিকভাবে।’

হামাস আগের দিন জানিয়েছিল, তারা ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি প্রস্তাবের কিছু মূল অংশ মেনে নিয়েছে—যার মধ্যে আছে যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং দুই পক্ষের বন্দি বিনিময়। তবে নিরস্ত্রীকরণসহ কিছু বিষয় নিয়ে তারা এখনও আলোচনার সুযোগ রেখেছে।

শনিবার ট্রাম্প এক পোস্টে লেখেন, ‘আলোচনার পর ইসরায়েল প্রাথমিক প্রত্যাহারের সীমারেখায় সম্মত হয়েছে, যা আমরা হামাসের সঙ্গে শেয়ার করেছি। হামাস এতে সম্মতি দিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, শুরু হবে জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, আর আমরা পরবর্তী পর্যায়ের প্রত্যাহারের ভিত্তি তৈরি করব।’

একই দিনে অ্যাক্সিওস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন খুবই কাছাকাছি—চুক্তিটা চূড়ান্ত করতে চাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।’ তিনি জানান, ‘বিবির (নেতানিয়াহুর) সঙ্গে কথা বলে বলেছিলাম, “এটাই তোমার জয়ের সুযোগ।” তিনি এতে রাজি হয়েছেন—তার আর বিকল্পও নেই।’

ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশই এই পরিকল্পনার পক্ষে। হামাসও অনেকদূর এগিয়েছে, এখন সময় এসেছে সেটি শেষ করার।’ তিনি যোগ করেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও হামাসকে রাজি করাতে ‘খুব সহায়ক ভূমিকা রেখেছেন’। তার ভাষায়, ‘এরদোয়ান শক্ত মনের মানুষ, তবে তিনি আমার বন্ধু, এবং তিনি দারুণ কাজ করেছেন।’

এছাড়া ট্রাম্প জানান, তিনি এখন ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছেন। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৬৭ হাজার ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন—অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, যাদের সংখ্যা এখনো অজানা।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এবং আন্তর্জাতিক গণহত্যা গবেষকদের সংগঠন দুটোই জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েল পৃথিবীর অনেক সমর্থন হারিয়েছে। এখন আমি সেটি ফেরত আনব।’

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন