হামাস বড় সংশোধন চাইবে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায়, তারপরেই মেনে নেবে: সূত্র
হামাস ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কিছু বড় ধরনের সংশোধন চাইবে, তবে বিশ্লেষক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, আগামী ক’দিনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে এ পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ট্রাম্প মঙ্গলবার থেকে ‘তিন বা চার দিনের’ মধ্যে সাড়া দিতে বলেছেন। তার বিশদ ২০ দফার পরিকল্পনা গাজার দুই বছরের যুদ্ধ থামিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রশাসন বসানোর প্রস্তাব দেয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি হামাস না বলে, তবে ‘নরকে মূল্য দিতে হবে’।
গাজা থেকে কায়রোতে থাকা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মখাইমার আবুসাদা বলেন, হামাস এখন ‘খারাপ আর সবচেয়ে খারাপের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য’। তিনি বললেন, ‘না বললে ইসরায়েল সব কিছু করবে শেষ করে দিতে। তাই তারা বলবে—হ্যাঁ, তবে আমাদের এগুলোও চাই।’
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের সিনিয়র ফেলো হিউ লাভাট মনে করেন, হামাসের পক্ষে শর্তগুলো নিঃশর্তে মেনে নেওয়া কঠিন। ‘কোনো বিশদ নেই। কিন্তু একেবারে গ্রহণ না করলে ইসরায়েল, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপিয়ানদের হাতে সেটাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে ট্রাম্প পরিকল্পনা মেনে নিয়েছেন, যেখানে ইসরায়েলের প্রধান চাহিদাগুলো রাখা হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বা দেরি করলে ইসরায়েল ‘কাজ শেষ করবে’।
হামাসের নেতৃত্ব ছড়িয়ে আছে ইস্তানবুল, দোহা আর গাজায়। তুরস্ক ও কাতার চাপ দিচ্ছে ছাড় দিতে। সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো নিরস্ত্রীকরণের শর্ত—যা সহজে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
যুদ্ধের দুই বছরে হামাসের প্রচণ্ড ক্ষতি সয়েছে। হাজারো যোদ্ধা ও প্রভাবশালী কমান্ডার নিহত। তবুও তারা এখনও গাজায় টিকে আছে, গেরিলা আক্রমণ চালাচ্ছে, আর নতুন যোদ্ধা সংগ্রহ করছে।
লাভাট বললেন, ‘সামরিক শাখার তরুণরা এখনো যুদ্ধ চালাতে চায়। তাদের বিশ্বাস—সময়টা ইসরায়েলের বিপক্ষেই যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, কে বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।’

