Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল ১৩টি গাজামুখী নৌযান থামাল, আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র, গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক অনেকে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৩ এএম

ইসরায়েল ১৩টি গাজামুখী নৌযান থামাল, আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র, গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক অনেকে

ইসরায়েলি বাহিনী গাজামুখী সহায়তাবাহী নৌবহরের ১৩টি নৌকা থামিয়ে দিয়েছে। তবে আয়োজকদের দাবি, এখনও ৩০টি নৌকা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার দিকে যাত্রা করছে। বৃহস্পতিবার তারা এই তথ্য জানায়।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নৌবহরের অন্যতম যাত্রী সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ সৈন্যদের মাঝে বসে আছেন।

ইসরায়েলি মন্ত্রণালয় ‘এক্স’-এ লিখেছে, ‘হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদে থামানো হয়েছে। যাত্রীদের ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেটা ও তার সঙ্গীরা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।’

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ওষুধ ও খাদ্য বহন করছিল। এতে ছিল ৪০টিরও বেশি নৌযান, প্রায় ৫০০ আইনজীবী, সংসদ সদস্য ও কর্মী। আয়োজকেরা টেলিগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে বলেন, তাদের জোর করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল অহিংস মানবিক সহায়তা।

এই ফ্লোটিলা গাজার অবরোধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমধ্যসাগরে যাত্রার সময় আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালি তাদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌকা ও ড্রোন পাঠায়। ইসরায়েল একাধিকবার সতর্ক করেছিল ফিরে যেতে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দুই কলম্বিয়ান নাগরিক আটক হওয়ায় ইসরায়েলের পুরো কূটনৈতিক দল বহিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হতে পারে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল আটজন মালয়েশিয়ানকে আটক করেছে। তার ভাষায়, ‘একটি মানবিক অভিযানে বাধা দিয়ে ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিনিদের অধিকারই অস্বীকার করেনি, বিশ্ববিবেককেও আঘাত করেছে।’

এই অভিযানের প্রতিবাদে ইতালি ও কলম্বিয়ায় বিক্ষোভ হয়। ইতালির শ্রমিক ইউনিয়ন শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

ইসরায়েলি নৌবাহিনী জানায়, নৌবহর সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে যাচ্ছিল এবং অবরোধ ভঙ্গ করছিল। তারা সহায়তা অন্য নিরাপদ পথে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।

আয়োজকেরা অভিযানে পানির কামান ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। তবে কেউ আহত হয়নি। তাদের দাবি, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায়’ অবৈধভাবে নৌকা আটকানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৩টি নৌযান আটকানো হয়। আয়োজকেরা বলেন, তারা দমে যাননি। এখনও ৩০টি নৌযান গাজার দিকে যাত্রা করছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মানবিক নয়, রাজনৈতিক উস্কানি। ২০০৭ সাল থেকে গাজায় অবরোধ চালু রয়েছে। এর আগে কয়েকবার সহায়তাবাহী নৌবহর ঢোকার চেষ্টা হয়েছিল।

২০১০ সালে ছয়টি জাহাজে ৫০টি দেশের কর্মীরা গাজায় যাচ্ছিলেন। তখন ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালালে নয়জন নিহত হন। এ বছরের জুনেও গ্রেটা থানবার্গসহ ১২ জনকে আটক করেছিল নৌবাহিনী।

ইসরায়েলি হিসেবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর শুরু হয় ইসরায়েলের অভিযান। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এতে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে লক্ষাধিক।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন