Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

গাজায় শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ, বলছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৪ এএম

গাজায় শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ, বলছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইভেট কুপার

গাজা উপত্যকায় চলমান দুই বছরের যুদ্ধ, সহিংসতা আর মানবিক বিপর্যয়ের অবসান এখন সত্যি সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন নতুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। জাতিসংঘ সম্মেলন থেকে ফিরে এসে তিনি জানান, এখন এমন এক সময় এসেছে যখন পুরো বিশ্ব চায় এই যুদ্ধ শেষ হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, গাজা নিয়ে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সেই ঘোষণার প্রেক্ষিতে কুপার বলেন, ‘আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে শান্তির পক্ষে বিশ্বের ঐক্যমত তৈরি হয়েছে।’

তবে তিনি সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে সম্মতি জানাননি। এ বিষয়ে দলীয় চাপে পড়লেও কুপার বলেছেন, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়—সরকারের অবস্থান এটাই।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ না করে থামব না।’ এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুপার আহ্বান জানান, ইসরায়েল যেন তাদের সামরিক কৌশল থেকে সরে আসে এবং শান্তির পথে অগ্রসর হয়।

তিনি বলেন, ‘মাঠের বাস্তবতা এত ভয়াবহ যে, আমরা যেসব শব্দ ব্যবহার করি, সেগুলো অনেক সময় অর্থহীন লাগে। কিন্তু এখন মূল বিষয় হলো—এই যুদ্ধের ফলে শিশুদের কান্না, তাদের আর্তনাদ থামানো। এখনই সেই মুহূর্ত যখন নতুন করে শান্তির পক্ষে গতি তৈরি হয়েছে।’

কুপার আরও জানান, তিনি ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমারকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তবে তার মতে, এখন মূল কাজ হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি টেকসই শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করা।

হোয়াইট হাউসের একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি অস্থায়ী প্রশাসন গঠনের ভাবনা চলছে, যেখানে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে জানা গেছে। যদিও কুপার দুইবার সরাসরি এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান, টনি ব্লেয়ার কি এই দায়িত্বের উপযুক্ত কিনা।

এদিকে কূটনৈতিক মহলে ব্লেয়ারের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য দূত হিসেবে অতীতে তার অভিজ্ঞতা থাকলেও, ইরাক যুদ্ধের ভূমিকায় এখনও তিনি অনেকের কাছে বিতর্কিত।

কুপার বলেন, ‘টনি ব্লেয়ার কিছু প্রস্তাব এনেছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাধিক পক্ষ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। আমাদের এখন দরকার একসঙ্গে পথ চলা। এটা দীর্ঘমেয়াদি একটি পথ। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে কুপার উল্লেখ করেন যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু এবং সব জিম্মিকে মুক্ত করার কথা। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এখনও বহু চ্যালেঞ্জ বাকি।

তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কট খুব জটিল, অনেক দিন ধরে চলছে। সহজ কোনো সমাধান নেই। তবে এখন একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এবং সেটিকে আমরা কাজে লাগাতে পারলে শুধু যুদ্ধবিরতিই নয়, সামনে এগোনোর একটি রূপরেখাও পাওয়া যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, গাজা নিয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। কুপার স্বীকার করেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হোয়াইট হাউসের যে ২১ দফা পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে গাজা থেকে জনগণকে জোর করে সরিয়ে না দেওয়া, হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল না বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রস্তাবের সঙ্গেও এর মিল রয়েছে।

তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ট্রাম্প পরিকল্পনার কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ আছে, বিশেষ করে টনি ব্লেয়ারের ভূমিকা নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে কুপার বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসছে, এটি ইতিবাচক দিক। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা বলি, মানবিক সংকট চলছে, শব্দগুলো প্রায় নিরর্থক শোনায়। কারণ প্রকৃত বাস্তবতা হলো—একটি শিশুর কান্না, তাদের যন্ত্রণা। সেটাই মূল প্রশ্ন। সেটাকেই আমাদের থামাতে হবে।’

যুদ্ধ কীভাবে ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে, এমন প্রশ্নে কুপার বলেন, ‘গাজা সিটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। এতে করে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুই পক্ষের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, এবং এই ভয়ংকর মানবিক সঙ্কট সামাল দিতে, ইসরায়েল সরকারকে এখনই তাদের কৌশল বদলাতে হবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

সবশেষে কুপার বলেন, ‘মানুষ আজ হতাশ, কারণ সবাই দেখছে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে এবং কিছুই যেন বদলাচ্ছে না। যুদ্ধ শেষ হওয়া ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প নেই। আর এখনই সেই সময়, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলে একটি বাস্তবসম্মত শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে পারে।’


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন