Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর হোটেলের সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার কয়েকজন

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম

নেতানিয়াহুর হোটেলের সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার কয়েকজন

নিউইয়র্কের রাত তখন গভীর। তবে একদল মানুষ তখনো জেগে ছিল প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে। শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, সেই হোটেলের সামনেই তারা জড়ো হয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন—তার আগেই যেন একটা দৃশ্য তৈরি হয়।

ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে লেনক্স হিল এলাকার হোটেলটির সামনে প্রায় দুই ডজনের মতো মানুষ জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা, আর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘genocide’ এবং আরও নানা প্রতিবাদী কথা। কেউ কেউ ড্রাম বাজিয়ে স্লোগান তুলেছেন, কেউ চিৎকার করে বলছিলেন, ‘baby killer’, ‘free Palestine’, ‘fuck Israel’।

পুলিশ শুরুতে তাদের সরে যেতে বললেও, পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুরো ঘটনাটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ হয়।

এই বিক্ষোভ এমন সময় হলো, যখন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণে গাজার সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আভাস ছিল। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই যেন এই প্রতিবাদ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশা ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এই আশার আলো নিভে যেতে দিতে পারি না। তাই আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, যুক্তরাজ্য এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।’

নেতানিয়াহু এই ঘোষণা শুনেই প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি একে বলেন, ‘মূর্খতা’, আর বলেন—‘সন্ত্রাসের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।’

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও পর্তুগালও সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি হয়তো প্রতীকী সিদ্ধান্ত, কিন্তু এতে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলের অনুমতি দেবেন না। তবে জাতিসংঘে যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিষয়টি ভোটে ওঠে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে তার ভেটো প্রয়োগ করবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে গাজায় চলছে ধ্বংসের রাজনীতি। হামেরের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা আর কান্নার হিসেব পেরিয়ে, এখন বিশ্বজুড়ে শুধু একটাই প্রশ্ন—এই রক্তপাত আর কতদিন?

প্রতিবাদকারীরা সেই প্রশ্নই যেন তুলেছেন নিউইয়র্কের ভোররাতে, নেতানিয়াহুর হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে। চিৎকারে, ড্রামের শব্দে, কিংবা পতাকার আঁচলে—তাদের ভাষা ছিল শান্তি, ন্যায়ের আহ্বান।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন