Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার প্রতিবেদন

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি কি শুধু পশ্চিমা নেতাদের ‘মুখ রক্ষা’র উপায়?

Icon

জাসটিন সালহানি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ পিএম

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি কি শুধু পশ্চিমা নেতাদের ‘মুখ রক্ষা’র উপায়?

কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসরায়েলের গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে দখলদারির বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত তাদের এক প্রতীকী প্রতিবাদ।

রবিবার এই ঘোষণার পর ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ আরও কয়েকটি দেশও শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।

এই ঘোষণায় ইসরায়েল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র শোশ বেদ্রোসিয়ান এই স্বীকৃতিকে "সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার" কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে এক সমাবেশে নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনও হবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্বীকৃতি যদিও অনেক শিরোনাম তৈরি করেছে, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। ফিলিস্তিনে চলমান দখল, হত্যা ও বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে এটি একমাত্র প্রতীকী জবাব।

ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ ও গবেষক রিদা আবু রাস বলেন, এই স্বীকৃতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ পর্যন্ত এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চুক্তির পরেই স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছিল।

তিনি বলেন, “তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন পথে হেঁটেছে, যা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াবে।”

এই ঘোষণার দিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩৭ জন গাজা শহরেই মারা যান।

অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লক্ষ ষাট হাজার।

ওই একই সময়ে পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন আরও এক হাজারের বেশি মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই স্বীকৃতির বাইরে আসলে বাস্তবিক পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

ফ্রিল্যান্স গবেষক ক্রিস ওসিয়েক মনে করেন, যদি স্বীকৃতির সঙ্গে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অবরোধ কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মতো কঠোর পদক্ষেপ না আসে, তবে এই স্বীকৃতি কেবলই কাগুজে ঘোষণা হয়ে থাকবে।

দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, “এই স্বীকৃতি অনেকটাই প্রতীকী। এসব দেশ নিজ দেশে চাপের মুখে ছিল, তাই কিছু একটা দেখানোর জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”

এই স্বীকৃতি এখন যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াকে ফিলিস্তিনি সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করার সুযোগ দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য এখন হুসাম জোমলটকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।

জোমলট এক বিবৃতিতে বলেন, “এই স্বীকৃতি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এটি আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারের স্বীকৃতি।”

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্র, কিছু ইউরোপীয় ও এশীয় দেশ এই স্বীকৃতি দেয়নি।

তবে স্বীকৃতি পেলেও ফিলিস্তিন এখনো জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয়। এ জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দরকার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। ইউরোপে বয়কট আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। ইইউ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কথাও ভাবছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এসব দেশ সত্যিই পরিবর্তন চায়, তবে তাদের স্বীকৃতির বাইরে এগিয়ে গিয়ে অস্ত্র বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, “ব্রিটেনের ওপর বিশেষ দায় রয়েছে। ইতিহাসে ফিলিস্তিনিদের প্রতি করা অন্যায়ের অংশ ছিল ব্রিটেন, এখন সময় হয়েছে সেটার সংশোধনের।”

তবে বিশ্লেষক রিদা আবু রাস বলেন, “যতক্ষণ না ইসরায়েলি দখল বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ এসব স্বীকৃতির বাস্তব প্রভাব খুবই সীমিত। আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন, তবে সেটা হতে হবে কঠোর এবং কার্যকর।”


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন