Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার প্রতিবেদন

ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি তুরস্ক?

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৯ পিএম

ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি তুরস্ক?

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান (বাঁয়ে) এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু \[ফাইল ছবি]

মাত্র ক’ঘণ্টা আগে কাতারে হামলা চালানোর পরই ইসরায়েলপন্থী কিছু কণ্ঠস্বর নজর ঘুরিয়ে ফেলল তুরস্কের দিকে। কাতার, যে কিনা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ‘মেজর নন-নাটো অ্যালাই’ হিসেবে পরিচিত, সেই দেশটির ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর পরই এমন কথাবার্তা সামনে আসে।

ওয়াশিংটনে ডানপন্থী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল রুবিন মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তুরস্ক। তিনি বলেন, তুরস্ক যেন তাদের ন্যাটো সদস্যপদকে সুরক্ষার আশ্রয় মনে না করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি একাডেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মেয়র মাসরি স্পষ্টভাবে লেখেন, "আজ কাতার, আগামীকাল তুরস্ক।" এ বক্তব্যের জবাবে আঙ্কারার প্রতিক্রিয়া ছিল কড়া। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা লেখেন, “সিয়োনিস্ট ইসরায়েলের কুকুরের প্রতি… খুব শিগগিরই পৃথিবী শান্তি খুঁজে পাবে তোমাদের মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।”

গত কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েলপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো তুরস্কের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রকাশ করে আসছে। তারা তুরস্ককে ‘ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু’ হিসেবে তুলে ধরছে।

তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপস্থিতিকে তারা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠনে তুরস্কের ভূমিকার দিকেও আঙুল তুলছে—যেন এটিও এক নতুন বিপদ।

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক গত আগস্টে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন ও গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আঙ্কারায় এই আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বেশ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের একজন ফেলো ওমর ওজকিজিলচিক আল জাজিরাকে বলেন, “তুরস্ক বিশ্বাস করে, ইসরায়েল এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এমন আচরণ করছে।”

তার মতে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মৌন সমর্থন আছে বলেই তুরস্ক মনে করে।

কাতারে হামলার ঘটনায়ও তুরস্কের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে। কারণ, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—যদি তুরস্কের ওপর কোনো হামলা হয়, তাহলে ন্যাটোর চার্টার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তা নিজেদের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবে কি না।

তবে অনেক আরব দেশের চেয়ে তুরস্ক অনেক আগেই বুঝে গেছে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে থাকা চলবে না—এ মন্তব্যও করেন ওজকিজিলচিক।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি “গ্রেটার ইসরায়েল” ধারণায় বিশ্বাসী। আর এই ধারণা শুধু আদর্শিক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে।

হাকান ফিদান আল জাজিরাকে বলেন, “ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণা মানে, তারা চায় আশপাশের সব দেশ দুর্বল থাকুক, অকার্যকর হয়ে পড়ুক এবং বিভক্ত থাকুক।”

ধারণাটি অনুসারে, ইসরায়েলের বিস্তৃত লক্ষ্য শুধু ফিলিস্তিন নয়—এর আওতায় রয়েছে বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, মিশর ও জর্ডানও।

এই পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক মনে করে, ইসরায়েল কেবল সীমিত যুদ্ধ করছে না, বরং পুরো অঞ্চলে এক নতুন দখল ও কর্তৃত্বের নকশা আঁকছে। আর এই নকশা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা সরাসরি তুরস্কের আঞ্চলিক স্বার্থের সঙ্গে সংঘর্ষে আসবে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন