Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

স্কুলছাত্রীদের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন, মেটার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম

স্কুলছাত্রীদের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন, মেটার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি শুনলে যেকোনো অভিভাবকই শঙ্কিত ও হতভম্ব হয়ে পড়তে পারেন।

ইংল্যান্ডের এক ৩৭ বছর বয়সী পুরুষ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, তার ফিডে মেটা বারবার এমন কিছু পোস্ট তুলে ধরেছে যেগুলোতে স্কুল ড্রেস পরা অল্প বয়সী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল মেটার নতুন প্ল্যাটফর্ম “থ্রেডস” ব্যবহারে উৎসাহিত করার আহ্বান। তার মতে, এই ছবিগুলো তাকে উদ্দেশ্য করেই পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রায় প্রতিটি ছবিতেই মেয়েদের মুখ ও নাম স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এটি শুধু অবাঞ্ছিত নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তাদের মতে, এই কাজটি একরকম অশালীন ইঙ্গিত বহন করে এবং শিশুদের ছবি ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করাটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিযোগে বলা হয়, স্কুলে ফিরে যাওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করে অনেক মা-বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মেয়েদের ছবি পোস্ট করেছিলেন। কেউ কেউ তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখলেও সেগুলো থ্রেডস প্ল্যাটফর্মে গিয়ে প্রকাশ্যে চলে যায়। কেউ কেউ আবার ছবি প্রকাশ করেছিলেন খোলা অ্যাকাউন্ট থেকে। এসব ছবিই পরবর্তীতে মেটা “সাজেস্টেড থ্রেডস” হিসেবে অন্যদের সামনে তুলে ধরে।

এ প্রসঙ্গে এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ের স্কুল ইউনিফর্ম পরা একটি ছবির মাধ্যমে একটি বড় “গেট থ্রেডস” বাটনসহ প্রমোশন চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার মেয়ের এমন একটি সাধারণ ছবি কেউ এভাবে ব্যবহার করবে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আমার কাছে পুরো বিষয়টি জঘন্য লেগেছে।”

আরেকজন মা বলেন, “আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মাত্র কয়েকশ ফলোয়ার থাকলেও, মেয়ের সেই ছবিটি প্রায় সাত হাজারবার দেখা হয়েছে—এবং বেশিরভাগ দর্শকই ছিলেন অপরিচিত পুরুষ।”

যিনি পোস্টগুলো দেখেছেন, তিনি বলেন, “আমি এর আগে কখনোই এমন ছবি খুঁজিনি বা লাইক দিইনি। তারপরও আমার ফিডে এমন ছবি এসেছে। এতে স্পষ্ট হয়, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।”

এই ঘটনার পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুর অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত অধিকারকর্মী বিবান কিডরন। তিনি বলেন, “স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ছবি দিয়ে যখন একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন চালানো হয়, তখন তা কেবল ভুল নয়, বরং শিশুর নিরাপত্তাকে সরাসরি উপেক্ষা করা হয়। মেটা কেবল নিজেদের মুনাফার কথা ভাবে, শিশুদের গোপনীয়তা নয়।”

মেটা অবশ্য বলেছে, এসব ছবি তাদের নীতিমালার মধ্যে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এগুলো ছিল মা-বাবাদেরই প্রকাশ্যে পোস্ট করা ছবি, যেগুলো ব্যবহার করে তারা থ্রেডস প্ল্যাটফর্ম প্রচার করছে। তবে মেটা এটাও বলেছে, তাদের অ্যালগরিদম সাধারণত টিনএজারদের থ্রেডস পোস্ট কাউকে দেখায় না। কিন্তু যেহেতু এসব ছবি বড়দের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল এবং প্রকাশ্য ছিল, তাই সেগুলো দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তাঁদের মতে, শিশুদের ছবি এমনভাবে ব্যবহারের সুযোগ যাতে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি পোস্ট করার সময় অভিভাবকদের সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার দায় যেমন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের, তেমনি পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও হতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন