Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহাল চায়

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম

নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহাল চায়

নেপালে চলমান দুর্নীতিবিরোধী গণআন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পউডেল কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।

নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও মাওবাদী সেন্টারসহ আটটি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ সংবিধানের পরিপন্থী এবং বিচার ব্যবস্থার সুপ্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির বিরোধী। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট পউডেল হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলেও এখন তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ অচিরেই এক ব্যাপক জনআন্দোলনে রূপ নেয়। সংঘর্ষে নিহত হন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। সরকার শেষ পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও, উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ শান্ত হয়নি। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের ব্যাপকতা দৃশ্যমান হয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পউডেল সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। তার ভাষায়, “সংবিধান ও সাংবিধানিক কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে, এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হতে পারে।”

অন্যদিকে, দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে ঘিরে রয়েছে বড় রকমের প্রত্যাশা। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী এই নেত্রীকে গণআন্দোলনের ছাত্রনেতারাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তার সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং আন্দোলনকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা অন্যতম।

কাঠমান্ডুতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। গণপরিবহন চালু হয়েছে, সেনা সদস্যরা ব্যারাকে ফিরছেন। যদিও কিছু এলাকায় এখনো সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, তারপরও রাজধানীতে সাধারণ জীবনযাত্রা পুনরায় সচল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের পুড়ে যাওয়া অংশ থেকে উদ্ধারকৃত সামগ্রী ইতোমধ্যে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি চলছে, এবং আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে—নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে নেপাল আবারও শান্তির পথে এগিয়ে যাবে।

সূত্র: বিবিসি

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন