৭২ ঘণ্টায় ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
শেষ তিন দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যেন জ্বলছে। ইসরায়েল তার সীমা ছাড়িয়ে একে একে ছয়টি দেশে আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলাগুলো শুধু বিস্ফোরণের ধ্বনি নয়—এই শব্দের মধ্যে চাপা পড়ে যাচ্ছে বহু মানুষের জীবন, পরিবার আর আশার কণ্ঠস্বর।
ফিলিস্তিন: রক্তাক্ত গাজা
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা শহরকে দিনের পর দিন নিশানা করে চলেছে। গত সোমবার থেকে অন্তত ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৫৪০ জনের বেশি।
খাবারের খোঁজে বের হওয়া ১৪ জন মানুষও মারা গেছেন এই হামলায়। দুর্ভিক্ষে আরও ছয়জন মারা গেছেন—এদের মধ্যে ছিল দুই শিশু।
বাড়িঘর ধ্বংস, পরিবার ছিন্নভিন্ন, হাসপাতালে জায়গা নেই। নিরাপত্তা কোথাও নেই—মাটি যেন নিজেই আতঙ্কে কাঁপছে।
লেবানন: থেমে নেই সীমান্তের আগুন
সোমবার দুপুর ১টার দিকে লেবাননের বেকা ও হেরমেল জেলায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের।
হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার টার্গেট করার দাবি করলেও, স্বাধীন সূত্রে এর সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার বারজা গ্রামে আরও এক ড্রোন হামলায় আহত হন এক হিজবুল্লাহ সদস্য।
সিরিয়া: হোমস ও লাটাকিয়ায় বিস্ফোরণ
সোমবার রাতেই সিরিয়ার হোমস ও লাটাকিয়া অঞ্চলে হানা দেয় ইসরায়েলি জেট। হোমসে একটি বিমানঘাঁটি ও লাটাকিয়ায় একটি সামরিক ব্যারাকে আঘাত হানে তারা।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘‘সার্বভৌমত্বের জঘন্য লঙ্ঘন’’ এবং ‘‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি হুমকি’’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
তিউনিসিয়া: শান্তির নৌবহরে আঘাত
তিউনিসিয়ার সিদি বু সাঈদ বন্দরে সোমবার রাতে এক শান্তিপূর্ণ নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল।
‘ফ্যামিলি বোট’ নামের জাহাজে আগুন ধরে যায়, যদিও সকলে প্রাণে বেঁচে যান।
পরের দিন, আরেকটি জাহাজ 'আলমা'—যেটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী—তিউনিসিয়ার জলসীমায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়।
এই নৌবহরটি গাজার অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল।
কাতার: যুদ্ধের আগুন এবার মধ্যপ্রাচ্যের হৃদয়ে
মঙ্গলবার, দোহায় হামাস নেতাদের এক বৈঠকের সময় হামলা চালায় ইসরায়েল। ছয়জন নিহত হন—তাঁদের মধ্যে ছিলেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে, দপ্তরের পরিচালক, তিন দেহরক্ষী এবং এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
হামলা হয় ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায়—যেখানে স্কুল, দূতাবাস, শিশুদের নার্সারি ও আবাসিক ভবন রয়েছে।
এটি ছিল কাতারে ইসরায়েলের প্রথম হামলা। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়েমেন: সানা বিমানবন্দরে ফের হামলা
বুধবার, ইসরায়েল সানা বিমানবন্দরে ফের আক্রমণ চালায়, হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে।
বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাত্র এক মাস আগেই, ৬ মে তারিখে একই স্থানে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছিল পুরো টার্মিনাল ভবন।
এর আগে, ২৮ আগস্ট হামলায় হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন।
এই ছয়টি হামলা—গাজা, লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, কাতার ও ইয়েমেন—ইঙ্গিত দেয় যুদ্ধ কেবল একটি অঞ্চলে থেমে নেই।
এ যেন আগুন ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। মানবিকতা যেন প্রতিদিন পরীক্ষার মুখে।
কোনো আলোচনা, কোনো চুক্তিও যেন আর ঠেকাতে পারছে না এই আগুনকে।
সূত্র: আল জাজিরা

