Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

'প্রতিদ্বন্দ্বী' ভারত ও চীন কি বন্ধু হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের 'দাদাগিরির' সামনে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৬ পিএম

'প্রতিদ্বন্দ্বী'  ভারত ও চীন কি বন্ধু হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের 'দাদাগিরির' সামনে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ভারতকে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে চীন। দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা দীর্ঘদিন মুক্ত বাণিজ্য থেকে সুবিধা নিলেও এখন তা শুল্ককে চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে তিনি জানান, এ ধরনের আচরণে যদি সবাই চুপ করে থাকে, তবে দাদাগিরি চালানোর সাহস আরও বাড়ে। তাই চীন বিশ্ব বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে ভারতের পাশে থাকবে।

এর আগে ভারত সফরে এসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও একই বার্তা দেন। তিনি একতরফা তর্জন–গর্জনের সমালোচনা করে বলেন, এতে মুক্ত বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ছে। এই অবস্থায় ভারত ও চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা, নদী বিষয়ক তথ্য বিনিময়, সীমান্ত বাণিজ্যসহ নানা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চীন বিরল খনিজ, সার ও টানেল বোরিং মেশিন সরবরাহে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কারণে দিল্লি–বেইজিং সম্পর্ক উষ্ণ হলেও সীমান্ত বিরোধ এখনো দুই দেশের বড় বাধা। গালওয়ান সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্ত সমস্যার সমাধান ছাড়া স্থায়ী বন্ধুত্ব সম্ভব নয় বলেই তাদের মত।

গবেষক উপমন্যু বসুর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আসলে চীনকে বৈশ্বিকভাবে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। তবে ভারত–চীন ‘সেরা বন্ধু’ হয়ে উঠবে তা সম্ভব নয়। অন্যদিকে গীতাঞ্জলি সিনহা রায় মনে করেন, চীন কখনোই ভারতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারবে না।

সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা ও পারস্পরিক সন্দেহ থাকলেও, বাস্তবতায় অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রয়োজনে ভারত–চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে চেষ্টা করছে দুই পক্ষই। সূত্র: বিবিসি


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন