Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ঐতিহাসিক জাপান–দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্পের ছায়া

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১১:০২ এএম

ঐতিহাসিক জাপান–দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্পের ছায়া

২৩ আগস্ট ২০২৫, টোকিওতে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। (ক্যোদো নিউজ/গেটি ইমেজেস)

এই সপ্তাহান্তে ইতিহাস তৈরি হলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির জন্য বিদেশ সফরে বের হলেন। গন্তব্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসি ও টোকিও। তবে আগের প্রেসিডেন্টদের মতো তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যাননি, বরং তার সফর শুরু হয়েছে জাপান দিয়ে— যে দেশ একসময় কোরিয়াকে উপনিবেশ বানিয়েছিল।

শনিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক শেষে দুই দেশ ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো যৌথ বিবৃতি দিল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য এবং কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণুমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার বার্ধক্য ও জন্মহার কমে যাওয়া— এই দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা আসে।

কিন্তু এই বৈঠকে সবচেয়ে নজর কেড়েছে স্বাক্ষরের কাগজ নয়, বরং দুই নেতার উষ্ণ হাসি আর বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন। প্রেসিডেন্ট লি বলেন, “এটি আমাদের দ্বিতীয় দেখা, কিন্তু মনে হচ্ছে আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।”

শত্রুতার বদলে এমন ঘনিষ্ঠতার সুর সত্যিই বিস্ময়কর। কোরিয়ায় জাপানের উপনিবেশ স্থাপন দীর্ঘদিন সম্পর্কের ওপর ছায়া ফেলে রেখেছিল। এমনকি মাত্র এক বছর আগেও লি তার পূর্বসূরিকে ‘টোকিওর হাতের পুতুল’ বলেছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসে জাপানকে তিনি ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপরিহার্য সঙ্গী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই ঘনিষ্ঠতা আসলে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপারের অস্থিরতার প্রতিফলন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত কূটনীতি দুই দেশকেই উদ্বিগ্ন করেছে। বাড়তি প্রতিরক্ষা ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া, শুল্ক বসানো এবং মার্কিন সেনা মোতায়েনের খরচ বহনের দাবিতে দীর্ঘদিনের জোটে টান পড়েছে। টোকিওর এক অধ্যাপক জেফ্রি কিংস্টন বলেন, “ট্রাম্পের লেনদেনমুখী কূটনীতি সবার জন্যই উদ্বেগের।”

ইউক্রেন যুদ্ধ জাপান ও কোরিয়াকে আরও সতর্ক করেছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার আর রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাইওয়ান সংকট, যেখানে চীনের সামরিক তৎপরতা আশপাশের সবার ঘুম হারাম করছে।

অর্থনীতিতেও টানাপোড়েন কম নয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক নীতি দুই দেশকেই ধাক্কা দিয়েছে। অথচ বেইজিং, যিনি দুই দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, তাকে খেপানোর মতো অবস্থানও নিতে পারছে না তারা।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবা ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের রূপ বদলানো স্বভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে গিয়ে তিনি প্রশংসা করলেও পরে বলতে বাধ্য হন, “ট্রাম্প স্বাভাবিক মানুষ নন, তিনি নিয়মই পাল্টে দেন।”

তবে এই নতুন সম্পর্কের পথে বড় বাধা হতে পারে ইশিবার পদত্যাগ। সংসদে দলের ভরাডুবির পর তার ওপর পদ ছাড়ার চাপ বাড়ছে। তিনি যদি সরে যান, তবে এই সদ্য পাওয়া সহযোগিতার মনোভাব উত্তরসূরির হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে কিনা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সূত্র: সিএনএন

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন