Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

বিদেশি নির্বাচনে মন্তব্য না করতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ১১:০৩ এএম

বিদেশি নির্বাচনে মন্তব্য না করতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ছবি: নাথান হাওয়ার্ড, রয়টার্স (ফাইল ছবি)

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা অন্য দেশের নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেন। এই নির্দেশনা গত ১৭ জুলাই পাঠানো এক গোপন বার্তায় দেওয়া হয়, যা রয়টার্সের হাতে এসেছে। এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে বড় ধরনের এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে আগে বিদেশে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে নির্বাচনী বিষয়ে আর কোনো বিবৃতি বা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হবে না, যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিকোণে একেবারে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ মনে না হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, যেখানে মন্তব্য করাটা উপযুক্ত হবে, সেখানে বক্তব্য হবে সংক্ষিপ্ত এবং মূলত বিজয়ী প্রার্থীর প্রতি শুভেচ্ছা জানানো এবং প্রয়োজনে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া।

তাতে আরও বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা সুষ্ঠু, বৈধ বা গণতান্ত্রিক তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

এ ধরনের বার্তা কেবল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা দপ্তরের মুখপাত্র দিতে পারবেন। এর বাইরে কেউ কোনো মন্তব্য করলে তা আগে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন লাগবে।

এই নির্দেশনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৩ মে রিয়াদের দেওয়া ভাষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর যারা অন্যদের কীভাবে শাসন করতে হবে বলে শেখায়, তারা ভুল করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর সেই পথে হাঁটবে না। বরং, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র এমন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়বে, যাদের সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থ মেলে।

এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র ইমেইলে জানান, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেশের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র আগে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে তার পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখত। যদিও বহুবার অভিযোগ উঠেছে, মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে তারা দ্বিমুখী নীতি নেয়।

ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টভাবে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসার থেকে সরে এসেছে। তাদের মতে, এটি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

এই প্রশাসন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার দপ্তর পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের দাবি, সেটি হয়ে উঠেছিল তথাকথিত "ওয়াক বিরোধী" নেতাদের বিরুদ্ধে বামপন্থী কর্মীদের আক্রোশের ক্ষেত্র।

অন্যদিকে, একই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউরোপের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে ডানপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সমালোচনা করেছেন। রোমানিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের ক্ষেত্রে তারা অভিযোগ এনেছেন, অভিবাসনবিরোধী মতামত বা তথাকথিত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবেলার নামে ইউরোপীয় সরকারগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন