২২ জুন সকাল থেকে পশ্চিম ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতা জারি করেছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এরপর ইসরায়েল জানায়, তারা ইরানের ভেতর মিসাইল লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান।
যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের পাশাপাশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একে "অসাধারণ সামরিক সাফল্য" বলে অভিহিত করে জানান, "ফোরদো আর নেই।" ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “যদি শান্তি না আসে, তাহলে আরও ভয়াবহ হামলা হবে।”
ইরান কী করবে?
ইরানের সামনে এখন তিনটি পথ—প্রতিশোধ না নেওয়া, দ্রুত জবাব দেওয়া, অথবা সুবিধাজনক সময়ে পাল্টা হামলা চালানো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, “ইরান সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব বিকল্প খোলা রাখছে।” তিনি জাতিসংঘকে কার্যকর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরান জানিয়েছে, মার্কিন ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফোরদোর কেবল উপরের স্তরে আঘাত করেছে, গভীর ক্ষতি হয়নি। তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর প্রমাণও মেলেনি। হুতিদের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশোধের হুমকি এসেছে।
যুদ্ধের সমর্থনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প ঐক্য:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রশংসা করে বলেন, “ইতিহাসে লেখা থাকবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বকে সবচেয়ে বিপজ্জনক শাসনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।” ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইসরায়েলের ভয়াবহ হুমকি দূর করতে এক দল হয়ে কাজ করেছি।”
সমালোচনা ও উদ্বেগ:
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের হামলাকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই গৃহীত অবৈধ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ একে অভিশংসনের উপযুক্ত কারণ বলেন। রাশিদা তলেইব বলেন, “আমরা আর মিথ্যা যুদ্ধ চাই না।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকিতে।” তিনি সামরিক পথ পরিহার করে কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হামাস ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
হামাস এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ইরানের পারমাণবিক সংস্থা বলেছে, “আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পথ থেকে পিছু হটব না, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
যুদ্ধের এই নতুন ধাপে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য ইরান কোন পথ নেয়, এখন পুরো অঞ্চল তাকিয়ে সেই সিদ্ধান্তের দিকে। পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়—এটাই এখন বৈশ্বিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

