জাতিসংঘে ইরান-ইসরায়েল মুখোমুখি: সংঘাতের দায়-দায়িত্ব নিয়ে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকের দৃশ্যছবি: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনটি উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কে রূপ নেয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ইরান ও ইসরায়েল, তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনে একে অপরের বিরুদ্ধে সঙ্ঘাতের দায়ভার চাপাতে থাকে।
অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানে আহ্বান জানালেও, কার্যকর কোনো পথ নির্ধারণে সদস্যদের মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা হয়নি— এমনটি জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি তার বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েল ও তার মিত্ররা ইরানের ওপর পরিকল্পিত এবং আকস্মিক সামরিক আঘাত হেনে দেশটির সার্বভৌম অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি এই অবস্থানকে 'সন্ত্রাসবাদী মনোভাবের বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা' বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এমন এক রাষ্ট্র, যারা বারবার সাধারণ জনগণ, বিশেষত শিশুদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করছে। তার বক্তব্য চলাকালীন সময়ে তিনি শিশুদের মৃত্যুর করুণ ছবি তুলে ধরে এসব হামলার নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন পাল্টা বক্তব্যে বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের ‘অবলা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা একটি নাটক ছাড়া কিছু নয়। তিনি ইরানি রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন রাখেন: “আপনারা কীভাবে এমন এক পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই চাইতে পারেন, যার লক্ষ্যই ছিল গণহত্যা ঘটানো?”

