Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জেনেভায় আলোচনায় বসছেন ইরান ও ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৫, ১১:৪৪ এএম

জেনেভায় আলোচনায় বসছেন ইরান ও ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

তেহরানে রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: আইআরসিএস/শাটারস্টক

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার জেনেভায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ফের শুরু করার পথ তৈরি করা।

এই বৈঠকের একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ এখনো চলছে এবং আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতি বন্ধ করার সময় এসেছে। এই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আর বাড়ানো যাবে না। তা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।”

বৈঠকটি জেনেভাতেই হবে, যেখানে ২০১৩ সালে ইরান ও বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছিল, যার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বদলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। ২০১৫ সালে এর ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ আলোচনা ভেঙে যায় ১২ জুন ইসরায়েল ইরানে হঠাৎ হামলা চালানোর পর।

ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, তেহরান সবসময়ই কূটনৈতিক আলোচনাকে স্বাগত জানায়, তবে তিনি ইউরোপীয় তিন দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের হামলা বন্ধ করায়। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “ইরান সবসময় কূটনীতিকে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু এখন সেই কূটনীতি হুমকির মুখে।”

অন্যদিকে ইসরায়েল খোলাখুলিভাবে ইরানে সরকার পতনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আর অস্তিত্ব রাখা উচিত নয়।”

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর:

আল-জাজিরার খবর অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় নেটজারিম করিডরের কাছে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালালে অন্তত ২২ জন নিহত হয়। বৃহস্পতিবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৭২ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন”-এর খাদ্য বিতরণস্থলে জড়ো হওয়া মানুষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েল ইরানের আরাক ভারী পানি পারমাণবিক চুল্লিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই হামলার আগে চুল্লিটি খালি করা হয়েছিল এবং “বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই”। ইসরায়েল নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে, যেটি আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গত এক সপ্তাহে ইরানে অন্তত ৬৫৭ জন নিহত ও ২,০৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৬৩ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৬৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ইরান সরকার এখন পর্যন্ত নিয়মিত মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করছে না এবং অতীতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে তুলে ধরেছে। সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে ২২৪ জন নিহত ও ১,২৭৭ জন আহত।

বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪০ জন আহত হয়েছেন বলে এপি জানিয়েছে। চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA-কে অভিযুক্ত করেছে, তারা ইসরায়েলের যুদ্ধনীতির সহযোগী হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে IAEA বলেছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে চুক্তির শর্ত মানছে না।

ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি সিস্তানি বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা এই অঞ্চলে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের “ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে” আঘাত করা হলে, তা সমগ্র অঞ্চলের জন্য “ভয়ংকর পরিণতি” বয়ে আনবে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন