Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত শীর্ষ জেনারেল

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৫, ১০:৫০ এএম

ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত শীর্ষ জেনারেল

নির্বিচারে চালানো হামলায় রাতের আকাশ বারবার ঝলসে উঠেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকে শুরু করে উভয়পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলি আক্রমণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) গোয়েন্দা শাখার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমি, তার সহকারী হাসান মোহাকিকসহ মোট তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসরাইল রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরানে নতুন করে আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে। পাল্টা আঘাতে ইরান তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। যদিও ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ইরানই বেশি ভুগেছে।

আল জাজিরার অনলাইন প্রতিবেদন অনুসারে, চলমান এই সংঘাতে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২২৪-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৭০ জন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইসরাইল হামলা বন্ধ করে, তাহলেই ইরানের প্রতিক্রিয়া বন্ধ হবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান ও ইসরাইল কোনও একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তায় পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের ভেতরে আরও গভীরভাবে অভিযান চালিয়েছে এবং তেহরান অভিমুখে একটি আকাশপথ খুলেছে। রবিবার দিনজুড়ে ইরানের অন্তত এক ডজন এলাকায় ব্যাপকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল জ্বালানির স্থাপনা, রাডার সিস্টেম, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও তার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। একইসাথে শীর্ষ গোয়েন্দা ব্যক্তিদের হত্যাও ঘটেছে।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (IDF) জানিয়েছে, মাশহাদ বিমানবন্দরে একটি ইরানি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে তারা ধ্বংস করেছে। এটি ইসরাইল থেকে প্রায় ২৩০০ কিলোমিটার দূরে, যা এ অভিযানের সবচেয়ে দীর্ঘ-পাল্লার হামলা হিসেবে চিহ্নিত।

সোমবার ভোরে IDF জানিয়েছে, ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ভূমি-থেকে-ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, ইসরাইলি জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা আরও জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে এবং ইসরাইলের ভেতরেও গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

IDF প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ইরানের অস্তিত্বকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে নির্মূল করাই এই অপারেশনের লক্ষ্য। তিনি বলেন, তারা পরিকল্পিত, দক্ষ এবং ধারাবাহিক কৌশলের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করছেন। তেহরানের পথে তারা একটি আকাশ করিডোর খুলেছে এবং পাইলটরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নির্ভুলভাবে হামলা চালাচ্ছেন।

জামির আরও জানিয়েছেন, ইরানের পরিকাঠামো এবং পারমাণবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করে এমনভাবে হামলা চালানো হচ্ছে যা ইরানের কল্পনারও বাইরে। রবিবার বিকেলে তেহরানে প্রচণ্ড বিমান হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। শহরের পানির পাইপলাইন ও ড্রেনেজ সিস্টেমেও বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা ইসরাইলি হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে, যদিও IDF এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

শিরাজ শহরেও সামরিক স্থাপনাগুলিতে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর এসেছে। IDF জানিয়েছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্য করে একাধিক আঘাত হানা হয়েছে। রবিবার রাতে পারচিন এলাকাতেও বিস্ফোরণের তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।

মেহর নিউজ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, পারচিনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জানা যায়, অক্টোবর মাসে ইসরাইল পারচিনে একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ধ্বংস করেছিল, যা ইরানের আগের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

মাশহাদ বিমানবন্দরে চালানো সর্বশেষ হামলাকে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে তিউনিসিয়ায় পিএলও সদর দপ্তরে হামলার দূরত্ব ছিল প্রায় ২০০০ কিলোমিটার, যা এর তুলনায় কম।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন