ইসরায়েলের হামলার পর ট্রাম্পের ডাকে মার্কিন নিরাপত্তা বৈঠক
ইরানে ইসরায়েল পরিচালিত সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছেন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ১১টায়, স্থানীয় সময় অনুযায়ী।
গত কয়েক মাস ধরে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ঘিরে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ইসরায়েলের এই হামলা আলোচনার গতিপথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং সামরিক নেতাদের ঘাঁটিতে তারা আঘাত হেনেছে। তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি প্রতিহত করতেই এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানায় তারা। এবং এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রচেষ্টার সূচনা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, “এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো—মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানান, হামলার সিদ্ধান্ত ছিল ইসরায়েলের নিজস্ব এবং এটি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তারা এতে অংশগ্রহণ করেনি। মার্কিন জড়িত থাকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে গুজব ছড়ানোর দরকার নেই।”
ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তার জেরুজালেম দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার ওমানে অনুষ্ঠেয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠ দফার পারমাণবিক আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক করে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, “তারা (ইসরায়েল) ইরানে আঘাত হানতে পারে।” যদিও তিনি কূটনৈতিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই প্রাধান্য দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস এক সতর্ক বার্তায় জানিয়েছে, “পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, ফলে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

