ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলা, নিহত জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও আইআরজিসি প্রধান
ইসরায়েল ভোররাতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির মূলকেন্দ্র ও সামরিক অবকাঠামো। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “অপারেশন রাইজিং লায়ন”-এর অংশ হিসেবে এ হামলায় ইরানের নাতাঞ্জে অবস্থিত প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ৬–৯টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলা হয়েছে আবাসিক ভবন ও বিপ্লবী গার্ডের সদর দপ্তরে। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ দুই বিজ্ঞানী—ফেরেদুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি—এতে প্রাণ হারিয়েছেন। ফেরেদুন ছিলেন আণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান, আর মেহদি ছিলেন ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট।
হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিও। ইসরায়েল দাবি করেছে, এই বিজ্ঞানী ও সামরিক নেতারা সরাসরি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, এটি ছিল “আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা।” হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে “বিশেষ জরুরি অবস্থা” জারি করা হয়েছে।
ইরান হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, “জায়নবাদী এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। প্রতিশোধ নির্ধারণে সরকার উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করছে।”
বিশ্বজুড়ে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বিশেষত পারমাণবিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে।

