Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি হস্তক্ষেপে গাজার পথে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ আটক, ভিডিও বার্তায় প্রতিবাদ গ্রেটা থুনবার্গের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৫, ০২:৫৬ পিএম

ইসরায়েলি হস্তক্ষেপে গাজার পথে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ আটক, ভিডিও বার্তায় প্রতিবাদ গ্রেটা থুনবার্গের

গাজায় চলমান মানবিক সংকটে সহায়তা পাঠাতে গঠিত আন্তর্জাতিক ত্রাণমিশনের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল 'ম্যাডলিন' নামের একটি জাহাজ, যার নেতৃত্বে ছিল অলাভজনক জোট ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’। ইতালি থেকে রওনা হওয়া জাহাজটি গাজার উপকূল ছুঁতে পারার আগেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী এটিকে থামিয়ে দেয় এবং আটক করে আশদাদ বন্দরে নিয়ে যায়।

আলজাজিরার সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

জাহাজে থাকা সুইডিশ জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ পরে ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক হয়েছি। আমাদের এই যাত্রাকে জবরদস্তিমূলকভাবে থামানো হয়েছে। দখলদার ইসরায়েল এবং তার সহযোগী বাহিনী আমাদের বন্দি করেছে।” এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাডলিনে থাকা ১৩ জন যাত্রীর মধ্যে রয়েছেন—২২ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফরাসি চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মী বাপতিস্ত আন্দ্রে, আল জাজিরার সাংবাদিক ওমর ফায়াদ, ব্রাজিলের ফ্লোটিলা সমন্বয়ক থিয়াগো অ্যাভিলা, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসান, তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী সুয়াইব ওর্দুসহ ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের আরও কয়েকজন মানবাধিকার ও সমুদ্র সংরক্ষণকর্মী।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, “তথাকথিত ‘সেলফি ইয়ট’-এ থাকা যাত্রীদের মধ্যরাতে আমাদের জলসীমায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা নিরাপদে আছে, তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে।” তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে যাত্রীদের পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করায় ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল হক এক্সে বলেন, “আটকদের অপমান করার এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন CAIR এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মানবিক মিশনের ওপর ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, “রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার ও যাত্রীদের জোরপূর্বক অপহরণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্য দৃষ্টান্ত।”

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ বলেছেন, গাজার ওপর ইসরায়েলের দখল অবৈধ এবং অবরোধ তুলে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “জাহাজ ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আমার শেষবার কথা হয় যখন তিনি বলেন, ‘আরেকটি বোট আমাদের দিকে আসছে।’ তারপরই সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

এই ঘটনার মাধ্যমে গাজার মানবিক সহায়তা রুখতে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও বেড়েছে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন