Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

গাজায় জাতিসংঘের খাদ্য গুদামে হামলে পড়ল হাজারো মানুষ, নিহহত ৪, বহু গুলিবিদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৫, ১১:১০ এএম

গাজায় জাতিসংঘের খাদ্য গুদামে হামলে পড়ল হাজারো মানুষ, নিহহত ৪, বহু গুলিবিদ্ধ

খাদ্যসংকটে ভোগা হাজারো ফিলিস্তিনি বুধবার গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি জাতিসংঘের গুদামে ঢুকে পড়ে। প্রচণ্ড ক্ষুধায় ক্লান্ত জনতা গুদামের ধাতব দেয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ার সময় পদদলিত হয়ে দুজন মারা যান এবং গুলিতে নিহত হন আরও দুইজন। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি গুদামে।

হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রসের একটি ফিল্ড হাসপাতাল। কারা গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি সেনা, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নাকি অন্য কেউ, তা জানা যায়নি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শত শত মানুষ গুদামে ঢুকে পড়ছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ভাষ্য অনুযায়ী, “দেইর আল-বালাহতে আমাদের আল-ঘাফারি গুদামে ক্ষুধার্ত জনতা ঢুকে পড়ে। সেখানে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষিত ছিল বিতরণের জন্য।”

তারা আরও জানায়, “টানা ৮০ দিন ধরে খাদ্যসহ সকল মানবিক সহায়তা বন্ধ থাকায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। এখনই গাজায় ব্যাপকভাবে খাদ্য সহায়তা বাড়াতে হবে—এটাই একমাত্র উপায় মানুষকে নিশ্চিত করা যে তারা না খেয়ে মরবে না।”

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সিগরিড কাগ বলেন, “যতটুকু সহায়তা ঢুকছে, তা যেন ডুবে যাওয়া জাহাজের লাইফবোটের মতো।”  তিনি জানান, গাজার মানুষেরা এখন আশা হারিয়ে ফেলেছে।

১১ সপ্তাহ ধরে চলমান অবরোধে গাজা এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। দোকানপাটে যে সামান্য খাদ্য আছে, তার দাম আকাশছোঁয়া। চিকিৎসক ও সাহায্যকর্মীরা বলছেন, অপুষ্টি প্রতিদিনই বাড়ছে।

একদিন আগেও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়। গাজার দক্ষিণে একটি নতুন বিতরণস্থলে মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়। ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনতা সীমানা ভেঙে ঢুকে পড়লে সেনারা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ও ফ্লেয়ার ছোড়ার শব্দ পাওয়া যায়।

লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত মানুষ তারের বেড়ার ভিতরে লাইনে দাঁড়ানো। হঠাৎ একযোগে সবাই ভেতরে ঢুকে পড়ে। এর ফলে দুইটি বেড়া ভেঙে পড়ে, পরে সবাই ছুটে পালায়। আহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা শুধু সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে এবং জনতার দিকে গুলি করেনি। 

এমন সময়েই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, এ মাসের শুরুতে এক বিমান হামলায় হামাসের গাজা শাখার প্রধান মোহাম্মদ সিনোয়ার নিহত হয়েছেন।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিতরণ কেন্দ্রটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত যা সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনারা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কেন্দ্রটিতে সামরিক যান, আটটি ত্রাণ ট্রাক ও দুর্বলভাবে মোড়ানো খাদ্যবস্তুর বাক্স দেখা গেছে।

ইসরায়েল মার্চ থেকে গাজায় সব সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। দাবি করা হয়, হামাস এসব ত্রাণ বাজেয়াপ্ত করছে। যদিও হামাস তা অস্বীকার করেছে। 

জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা নতুন বিতরণ ব্যবস্থাকে অকার্যকর ও রাজনৈতিক অস্ত্র বলে বিবেচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, “ত্রাণ ব্যবস্থাকে যে যুদ্ধনীতির আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মানবিকতার সঙ্গে প্রতারণা।”

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন