অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিবকে এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
অব্যাহতভাবে জামায়াত বিরোধী বক্তব্যের জেরে এনসিপির আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েসের যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিবকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েসের দপ্তর থেকে প্রেরিত বহিষ্কারের চিঠি হোয়াটসআপে পাঠানো হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাকিব ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বৃহত্তর জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছি। তবে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত এ মুহূর্তে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, নাজমুস সাকিব দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোটের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি তার বক্তব্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা, হত্যাযজ্ঞে সমর্থন, নারী নেতৃত্ববিরোধী অবস্থান এবং ধর্মীয় উগ্রবাদী নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সাবেক ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে ‘বেয়াদব’ বলে সম্বোধন করেন নাজমুস সাকিব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক ও পেশাজীবী অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তিনি সম্প্রতি সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেটা আরেকটা রঙ্গমঞ্চ হবে বলে মন্তব্য করেন।
অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
বহিষ্কারের চিঠিতে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়। আপনি গত ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে ওই নোটিশের জবাব প্রদান করেন। যা সন্তোষজনক না হওয়ায় আপনার বিরুদ্ধে আনিত সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহকর্মীদের সঙ্গে বিরূপ ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও মন্তব্য, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অন্যান্য অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা উপ-কমিটির প্রস্তাবনা সাপেক্ষে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এর অনুমোদনক্রমে আপনাকে ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স এর যুগ্ম সদস্য সচিব পদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
শোকজ নোটিশের বিপরীতে নাজমুস সাকিব তার লিখিত জবাবে লিখেন, কীভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলাম সেটা শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি এবং শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানকে জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

