জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপির
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ জামায়াতের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ করেছে বিএনপি। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ, ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছে দলটি। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এসব কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, একটি নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও প্রতারণামূলক “দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন” বয়ান প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।’
তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির সূচক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এটি জাতীয়ভাবে প্রমাণিত যে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের সূচকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪, যা ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত শাসনক্ষমতায় থাকা তৎকালীন রাজনৈতিক দলটির দুর্নীতির প্রতিফলন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির প্রতি বিএনপির জিরো টলারেন্স এবং সুশাসনের ফলে এটি ক্রমে উন্নত হয়। অতএব যে দল ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে, এমনকি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত গঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে মাহদী আমিন বলেন, খুবই বিস্ময়কর, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উক্ত দলটি নিজেই সরকারের অংশ ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সরকারে থাকা অবস্থায় তখন এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে তারা নির্বাচনী মাঠে এসে ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার এই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আমরা উক্ত দলটির এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছি।

