এবার দুই মাস নির্বাচন পেছাতে তদবির ইসলামী আন্দোলনের
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজনে দুই মাস পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন তারা মানবে না বলেও জানিয়েছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে দলের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “
সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হবে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গণভোটের তারিখ দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি বারবার সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা রাষ্ট্র সংস্কার চায় না, চায় না সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশকে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। সংস্কার এখন অবশ্যম্ভাবী।
গাজী আতাউর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১০ তারিখের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি না হলে আমরা ঢাকাকে লোকে লোকারণ্য করে ফেলবো—ইনশাআল্লাহ। সংস্কারের জন্য কমিশন হয়েছে, ঐকমত্য কমিশন হয়েছে, জুলাই সনদ হয়েছে, সবাই সাক্ষরও দিয়েছে। এখন গড়িমসি কেন?
তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে না, তফসিলও আলাদা হবে। আমরা বারবার নভেম্বরে গণভোটের কথা বলেছি, কিন্তু সরকার দেরি করছে। এখন যদি নভেম্বরে গণভোট না হয়, তাহলে যখনই হবে, আগে গণভোট হতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হয়ে দুই মাস পরে হোক—কিন্তু গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের তরুণেরা প্রাণ দিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। আমরা আন্দোলন শুরু করেছি, প্রয়োজনে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
বিএনপি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী দলের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে তিনি বলেন, “যারা দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলা একটা তামাশা ছাড়া কিছু নয়।”
পল্টন মোড়ের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, এবং কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে গণমিছিলসহ একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. মুহাম্মদ আবু তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদসহ আট-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

