Logo
Logo
×

রাজনীতি

জাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গবেষণাভিত্তিক প্রস্তাবনা উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম

জাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গবেষণাভিত্তিক প্রস্তাবনা উপস্থাপন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গবেষণাভিত্তিক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ছাত্রদলের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গবেষণাভিত্তিক প্রস্তাবনায় বলা হয়, একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মানসম্মত পুষ্টি নিশ্চিতকরণে স্থানীয় উৎপাদনমুখী উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ছে। বাজারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলে খরচ যেমন বাড়ে, মান নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে মুরগি ও মাছ উৎপাদন করলে তা একদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আমিষের চাহিদা মেটাবে, অন্যদিকে খরচ বাঁচিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। এই প্রস্তাবনায় সেই সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

১। দেশে ভেজাল খাবারের পাশাপাশি ক্ষতিকর ফীড আর ওষুধ দিয়ে উৎপাদিত মাছ-মাংসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ফলে মানুষের শরীরের মেটাবোলিজম প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি শরীরের অ্যান্টিবায়টিক রেজিস্টেন্স বেড়েই চলেছে। জনগণ আজ ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে নিমজ্জিত। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ।   

জাতিসংঘ অনুযায়ী একটি পরিমিত পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিজন শিক্ষার্থীর গড় দৈনিক আমিষ চাহিদা (মাংস/মাছ) প্রায় ৫০ গ্রাম। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীর বার্ষিক আমিষের চাহিদা প্রায় ২৩৭ টন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে খুবই নিম্ন মানের ও অপুস্টিকর খাবার খাচ্ছেন। বিত্তশালী পরিবারের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিভিন্ন খাবারের দোকানে ইচ্ছেমত খাওয়ার সুযোগ পেলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা হল ডাইনিং এর উপর ভরসা করে থাকে। আর হল ডাইনিং – এর খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টির বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত। 

হল ডাইনিং এর খাবারের কুপনের দাম অনুযায়ী খাবারের মেন্যু নির্ধারিত হয়। আর কুপনের দাম নির্ধারিত হয় নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায়। 

২। বাজার থেকে মাছ/মুরগি কিনে হল ডাইনিংগুলোতে সরবরাহ করা হয়। বাজারের এইসব পণ্যে একদিকে যেমন ক্ষতিকর উপাদানের ঝুঁকি থাকে, আরেকদিকে আছে ক্রমবর্ধমান ক্রয়মূল্যের বোঝা। ফলে কুপনের দামের সাথে হিসেব মিলাতে পরিমিত পরিমাণ মাছ/মাংশ শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হয় না। এই সমস্যাগুলো সমাধানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে মাছ/মুরগি চাষ করে সুলভ মুল্যে ভেজালমুক্ত আমিষের চাহিদা মেটানো হয়। উদাহরণঃ 

- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ)। এখানে বড় আকারে ফিশারি ফ্যাকাল্টির গবেষণামূলক পুকুর, গরু-ছাগল ফার্ম, পোল্ট্রি রিসার্চ ফার্ম আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও হলগুলোতে এখানকার দুধ, ডিম, মাছ, মাংস কিছু অংশ সরবরাহ হয়।

- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়—সবগুলোর নিজস্ব ফার্ম আছে, যেখানে গবেষণার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ হয়।

- বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী/ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ/ বাংলাদেশ পুলিশ এর ট্রেনিং সেন্টার, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব উপায়ে আমিষ উৎপাদন করে চাহিদা পূরণ করা হয়।

৩। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও অভ্যন্তরীণভাবে মাছ/মাংশ উৎপাদন করে হলের ডাইনিংগুলোতে সরবরাহ করলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুলভে নিরাপদ আমিষের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। এতে করে বাজারের ক্রয়মূল্যের থেকে একটা বিশাল অংশ সাশ্রয় হচ্ছে, যা ভর্তুকি হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একই মূল্যে আগে হল ডাইনিং-এ প্রতিবেলা খাবারে একজন শিক্ষার্থী যত গ্রাম মাছ/মাংস পেতেন এখন তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ পাবেন। 

হল ডাইনিংগুলোতে যতটা সহজে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করা যায়, হলের বাইরের ক্যাম্পাসের হোটেলগুলোতে মান নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কঠিন ও জটিল। হল ডাইনিংগুলোতে ভাল খাবার সরবরাহ শুরু  হলে অনেক বেশি শিক্ষার্থী এখানে খেতে আসবেন, হলে হলগুলোতে একটা প্রাণবন্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাবে। 

৪। শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক মোট আমিষ চাহিদা দু’টি উপাদানের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে; শুধু মুরগি থেকে, অথবা মুরগি ও মাছ উভয় থেকে।

শুধু মুরগি থেকে পূরণঃ গড়ে একেকটি ব্রয়লার মুরগির ওজন হয় 1.8-2.00 কেজি, খাওয়ার উপযোগী মাংস পাওয়া যায় প্রায় 1.4 কেজি। 13000 শিক্ষার্থীর বাৎসরিক চাহিদার জন্য দরকার প্রায় 170,000 টি মুরগি

মাছ ও মুরগির সমন্বয়ে আমিষ চাহিদা পূরণঃ মোট আমিষ চাহিদার 60% মুরগি এবগ্ন বাকি 40% মাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। সেক্ষেত্রে বাৎসরিক মুরগির মাংস লাগবে আনুমানিক 142,350 kg। আর বার্ষিক মাছ লাগবে আনুমানিক 94,900 kg।

এখানে কার্প জাতীয় মাছ চাষে সেমি-ইনটেনসিভ (conservative) ও ইমপ্রুভড ম্যানেজমেন্ট (improved) পদ্ধতিতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও লাভ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ঢাকার সাভার অঞ্চলের ২০২৫ সালের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন খরচ ও সম্ভাব্য লাভ নিরূপণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন না করে সরাসরি বাজার থেকে মাছ ও মুরগি ক্রয়ের মাধ্যমে লাভজনকতা কেমন হতে পারে সেটিও তুলনামূলকভাবে দেখানো হয়েছে।

৫। মুরগি পালনে বিস্তারিত 

স্বাস্থ্যগত বিষয় ও ক্ষতিকর ফীড ব্যবহার না করে উৎপাদন করলে 50 দিনে উপযোগী হতে পারে। এক ব্যাচ শেষ করার পর শেড পরিষ্কার, জীবাণুমুক্তকরণ, নতুন বাচ্চা ঢোকানো ইত্যাদিতে প্রতি ব্যাচের মাঝে 7 দিন গ্যাপ লাগে। অর্থাৎ বছরে সাধারণত 5-7 ব্যাচ (শিফট) পালন করা যায়। এক ব্যাচ শেষ করার পর শেড পরিষ্কার, জীবাণুমুক্তকরণ, নতুন বাচ্চা ঢোকানো ইত্যাদিতে প্রতি ব্যাচের মাঝে প্রায় 5-7 দিন গ্যাপ লাগে। বছরে 6 শিফট হলে প্রতি শিফটে প্রায় 17,000 টি মুরগি পালন করা যাবে। প্রতিটি ব্যাচের সময়কাল হবে 50 থেকে 60 দিন।

গড়ে প্রতি 1000 ব্রয়লার পালনে প্রয়োজন 1000 - 1200 বর্গফুট। আমিষের চাহিদা মেটাতে বাৎসরিক 6 শিফট করে পালন করলে, চাহিদা মোতাবেক মুরগি শিফট ভিত্তিক উৎপাদনে ক্ষেত্রে, 

শেড প্রয়োজন প্রায় 20,000 sqft + 30% বাফার ≈ 26,000 sqft ≈ 0.60 একর।

ভ্যাক্সিন/ড্রেনেজ/ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট, ইত্যাদির জন্য আরও 10% অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, শেডসহ মোট দরকার প্রায় 0.68 একর। 

৬। মাছ পালনে বিস্তারিত

বার্ষিক আমিষ চাহিদা পূরণে মাছ দরকার 94,900 kg/বছর ≈ 95000 kg/বছর। বাংলাদেশের চলমান পদ্ধতি অনুসারে কিছু সাধারণ অপশন এখানে বিবেচনা করা হয়েছে। কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে (semi-intensive), মধ্যম উন্নত পদ্ধতিতে (improved management), ও হাই-ইন্টেনসিভ / Intensive পদ্ধতি। 

তবে, প্রাথমিকভাবে মধ্যম উন্নত (improved management) পদ্ধতিটি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে একর প্রতি বাৎসরিক প্রায় 2800 - 3500 kg মাছ উৎপাদন সম্ভব। অর্থাৎ, এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন প্রায় 30 একর। মাঝারি পর্যায়ের উন্নত ব্যবস্থাপনায়। ইনপুট মাঝারি (ভালো মানের বাণিজ্যিক ফিড, ডিও মনিটরিং, পাম্প/এরিয়েটর, নিয়মিত হেলথ কেয়ার)। ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে; খরচও বেড়ে যায়। লাভ/ঝুঁকি মাঝারি।

৭। সম্ভাব্য বিনিয়োগ খরচ

ব্রয়লার (মুরগি) ইউনিটঃ 

সম্ভাব্য খরচের খাতগুলো হল

মাঝামাঝি মানের শেড নির্মাণে

ভেন্টিলেশন, ফ্যান, ড্রিঙ্কার/ফিডার, প্যারপ্লাস্ট/পর্দা, অটোমেশন কন্ট্রোল ইন্সটল

বাকি অবকাঠামো যেমন বাউন্ডারি দেয়াল, ফীড ষ্টোর, শ্রমিকের বিশ্রাম স্থান, টিউবওয়েল/পানি, ইলেকট্রিকাল

প্রথম ব্যাচের জন্য চারা/বাচ্চা, প্রথম 4–6 সপ্তাহের ফিড ও ভ্যাকসিন ইত্যাদি (working capital) 

মোট আনুমানিক বিনিয়োগ প্রায় 55 -70 লাখ টাকা। যার দীর্ঘমেয়াদি অংশই হচ্ছে 40 লাখের মত।

কার্প-কেন্দ্রিক পুকুরে মাছ চাষ ইউনিটঃ

মধ্যম উন্নত (improved management) পদ্ধতিটি বিবেচনা করায় প্রায় 30 একর জলাশয়ের হিসেব ধরা হয়েছে। সম্ভাব্য খরচের খাতগুলো হল-

পুকুর খনন/বান্ড/ইনলেট-আউটলেট নির্মাণ

পাম্প, পাইপিং, স্লুইস গেট, হ্যান্ডলিং জেটি ইত্যাদি ইন্সটল

পরিবহন/ রোড, জাল/ ফেন্স, হেডকুইটার ইন্সটল

প্রাথমিক ফিঙ্গারলিং ও ইনপুট/ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ইত্যাদিতে (fingerlings + initial feed + fertilizer + labor for first cycle)।

অতএব একরপ্রতি মোট বিনিয়োগ প্রায় 550,000 – 700,000 টাকা, সর্বমোট 30 একরের জন্য প্রয়োজন প্রায় 1.75 কোটি– 2.1 কোটি টাকা মাত্র।

মুরগি ও মাছ পালনের জন্য কিছু লোকবল নিয়োগ করা হবে, দরকারে বিভিন্ন আবাসিক হলের দায়িত্বরত স্টাফরা রোস্টারভিত্তিক কাজ করবেন। তাদের বাড়তি ভাতাও দেওয়া হবে। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকবেন ম্যানেজমেন্ট ও তত্ত্বাবধানে।

৮। সম্ভাব্য লাভ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদন করলে উৎপাদন খরচ পড়বে কেজি প্রতি সাশ্রয় প্রায় 130 - 150 টাকা বা অধিক। অর্থাৎ, 95000 কেজি উৎপাদনের ফলে সম্ভাব্য সাশ্রয় প্রায় 1.4 কোটি টাকা। বিনিয়োগের প্রথম 3 বছরের পূর্বেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসতেছে।

আবার, মুরগির ক্ষেত্রে উৎপাদন মুল্য অনুসারে বাজার মুল্যের তুলনায় কেজি প্রতি 40-50 টাকা সাশ্রয়। বিভিন্ন সেকেন্ডারি সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কেজি প্রতি বাজার মুল্যের থেকে প্রায় 40% কম থাকে উৎপাদন মুল্যে। অর্থাৎ শিফট প্রতি 23800 কেজি মাংসে সম্ভাব্য সাশ্রয় হচ্ছে 8 – 9 লাখ টাকার মত। যা এককালীন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত করতে সময় নিবে মাত্র 11 মাস।

৯। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই প্রাথমিক স্টাডিটি পরিচালনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী রেদওয়ানুর রহমান। উপাচার্য মহোদয়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা নবীন, বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক, যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম রিয়াদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজুয়ার হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুবায়ের হোসাইন, সদস্য মির্জা আবু বকর সিদ্দিক সোহাগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে উপস্থাপনা শেষে তিনি কিছু সংশোধনী পরামর্শ প্রদান করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট কিছু বিভাগের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের জন্য সুলভে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

খসড়া প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রয়োজনে আধুনিক বায়ো-সিকিউর শেড, মাছ-মুরগির সমন্বিত খামার (integrated farming) কিংবা RAS (Recirculating Aquaculture System) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জায়গা ও খরচ আরও সাশ্রয় করা যাবে।

ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট মনে করে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার পাবে, খরচ কমবে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার দিকেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

সেই সাথে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে অনিরাপদ ব্যাটারি চালিত রিকশা থেকে কিভাবে নিরাপদ ও টেকসই ভার্সন উৎপাদন করা যায় সেটা নিয়েও আজকে আলোচনা করা হয়।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন