Logo
Logo
×

রাজনীতি

জনগণের ওপরে দলীয় এজেন্ডা চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না : ডা. জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম

জনগণের ওপরে দলীয় এজেন্ডা চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না : ডা. জাহিদ

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জনগণের ওপরে দলীয় এজেন্ডা চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক অনুষ্ঠানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) দাবি নিয়ে আন্দোলনরত দলগুলোর প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আজ তোপথানা রোডে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন-২৫ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্ব নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়।

তিনি বলেন, দেশকে একটা অরাজক পরিস্থিতিতে ফেলতে চাচ্ছেন… উদ্দেশ্যটা কী? দেশের মধ্যে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। কিন্তু মনে রাখবেন, এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ না। আপনি ইচ্ছা করলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবেন না। 

ডা. জাহিদ বলেন, আমি তাদেরও বলি, আসেন জনগণের কাছে যান। জনগণ যাকে গ্রহণ করে, আপনি আপনার এজেন্ডা নিয়ে যাবেন, আমরা আমাদের এজেন্ডা নিয়ে যাব। জনগণ যাকে গ্রহণ করবে সেই এজেন্ডকে আমরা স্যালুট করব। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই জনগণের কথা বলে আপনার দলীয় এজেন্ডা, কোনো দেশীয় অথবা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের এজেন্ডা চাপিয়ে দিয়ে মনে করেছেন পার পেয়ে যাবেন, সেটি মানুষ ইনশাল্লাহ হতে দেবে না।

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ বলেন, ৫ আগস্টের আগে অথবা গত ১৬/১৭ বছরে আমরা কেউ সংখ্যানুপাতিক ভোট অর্থাৎ পিআর চাই? আপনারা শুনেন নাই… এই ধরনের বক্তব্য কারো ছিলো না। আজকে কেউ কেউ বলেন… বলতে দোষ নাই। কারণ গণতন্ত্রের মধ্যে কথা বলবেন দিস ইজ দি বিউটি অব ডেমোক্রেসি এবং মত প্রকাশের যে ভিন্নতা থাকবে সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য… এর মধ্যে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যখন আপনার কথা না শুনলে এটা হতে দেবো না, এটা করতে দেবে না তখন কিন্তু কর্তৃত্ববাদীতার আওয়াজ পাওয়া যায়। অর্থাৎ স্বৈরাচার যে ভাষায় কথা বলতো সেটার প্রতি ধ্বনি শোনা যায়। এটা কী ঠিক? আপনি ডেমোক্রেসি মানবেন আপনি আপনার নির্বাচনি ম্যানিফোষ্টোতে দেন। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, যদি জনগণ নির্বাচিত করে আমি আগামীতে এই সিষ্টেমে যাব। যেমন বিএনপি ৩১ দফার কর্মসূচি দিয়েছিলো… বিএনপি নির্বাচিত কী করবে? ইটস ওপেন ডকুমেন্ট… এটা আজকে দেয়নি ২০২২ এর ডিসেম্বরে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা কর্মসূচি এবং ২০২৩ এর জুলাইতে দিয়েছে ৩১ দফার কর্মসূচি।

তিনি বলেন, যখন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে… ঐক্যমত্যের আলোচনা চলছে তখন দেখলাম কেউ কেউ রাস্তায় নামছেন, প্রোগ্রাম করতেছেন… দ্যাটস গুড.. প্রোগ্রাম করা ভালো, জনগণকে সচেতন করা ভালো। কিন্তু এর অর্থ এই না যে, আপনি একধরনের কর্তৃত্ববাদীয় মতামত জনগণের নাম বলে জনগণের অনুমতি না নিয়ে চাপিয়ে দেবেন। এটি কোনো অবস্থাতে কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

নির্বাচিত সরকার না থাকায় বৃহৎ আকারে বিনিয়োগ সম্মেলনের পরও বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে না বলে উল্লেখ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিনিয়োগ যদি না হয় আর জব ওপোরচুনিটি ক্রিয়েট না হয় এই বিশাল তুরণ প্রজন্ম কোথায় কাজ করবে? তাদের কর্মসংস্থান কীভাবে হবে? কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগকারী দরকার। আর সেই বিনিয়োগকারী দেশীয় হোক, বিদেশী হোক তারা চায় স্থিতিশীল সরকার, রাজনৈতিক সরকার, জনগণের সমর্থিত নির্বাচিত সরকার… দ্যাট শুড বি আওয়ার টার্গেট…প্রত্যেকের সেটা টার্গেট হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে ও রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী সবুজ ও আরিফুল ইসলাম আরিফের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনা সংগঠনটির নেতেরা বক্তব্য রাখেন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন