জি এম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা ও মামলা প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোবায়েত ফেরদৌস এই আদেশ দেন।
বাদীরা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করায় আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলা পরিচালনার কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশও প্রত্যাহার করেন।
আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএম কাদেরের আইনজীবী মনোয়ার হোসাইন আলম জানান, গত ২ আগস্ট মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন বাদীপক্ষ। ১২ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুলাই জিএম কাদের ও মাহমুদুল আলমের দলীয় কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এই আদালত। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জনের প্রাথমিক পদসহ সাংগঠনিক পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থিভাবে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জিএম কাদের পার্টির সম্মেলন ও কাউন্সিল ডেকে অবৈধভাবে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ ৭ জনকে, পরে আরও ৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইট থেকেও তাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়।
যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জনের পক্ষে গত ১০ জুলাই এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, জিএম কাদেরের কার্যক্রমে ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর গত ৯ আগস্ট জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয় আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে এবং মহাসচিব করা হয় রুহুল আমিন হাওলাদারকে। পাশাপাশি সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাজী ফিরোজ রশিদ এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। তবে জি এম কাদেরের অংশ নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।
