Logo
Logo
×

রাজনীতি

নীলার অভিযোগের ব্যাপারে যা বললেন এনসিপির তুষার

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

নীলার অভিযোগের ব্যাপারে যা বললেন এনসিপির তুষার

দলের এক নেত্রীকে 'কুপ্রস্তাব' দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সারোয়ার তুষারকে নিয়ে লম্বা একটি পোস্ট করে নানা অভিযোগ করেন এনসিপি নেত্রী ও অভিনয়শিল্পী নীলা ইস্রাফিল। 

এ বিষয়ে জানতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি দলের কাছে লিখিতভাবে জবাব দেব। গত কয়েকদিনে তিনি একেকরকম কথা বলেছেন। একবার বলেছেন কল রেকর্ড তিনি করেননি, যার প্রেক্ষিতে আমি তাকে অনুরোধ করেছি আপনি যদি কল রেকর্ড করে না থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনি এটা ক্ল্যারিফাই করতে পারেন, কারণ থার্ড পার্টি এই কল রেকর্ড ও লিক করে থাকলে তা উদ্বেগজনক। 

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, তিনি আমাকে বলেছেন, কি ক্ল্যারিফিকেশন দিতে পারেন তিনি। আমি বলেছি আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন, এই কল রেকর্ড কারা ফাঁস করল? আমার এই অনুরোধকেই প্রচার করা হয়েছে আমি নাকি তাকে 'চাপ' দিয়েছি।  এখন তিনি আবার এই পোস্টে স্বীকার করেছেন  তিনিই আমার অগোচরে কল রেকর্ড করেছেন এবং ফাঁস করেছেন। কল রেকর্ডের ব্যাপারে আমি একেবারেই অবহিত ছিলাম না। 

তিনি আরও বলেন, তিনি আমাদের দলের কোনো পর্যায়েরই কোনো পদ ধারণ করেন না। বিভিন্ন পাবলিক প্রোগ্রাম এটেন্ড করেন মাত্র। তার দলীয় পদ পাওয়া না পাওয়ার সাথে আমার ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নাই কারণ আমি দলের কমিটির দিকগুলো দেখি না। এ ব্যাপারে তিনি যে দাবিগুলো করেছেন (তাকে দূরে রাখার ব্যাপারে) তার কোনো ভিত্তি নাই। আমি এ ধরনের নির্দেশনা কাউকে কখনো দেইনি। 

তিনি আরও বলেন, উপরন্তু ফাঁসকৃত রমজান মাসে, এরপরই রোজা শুরু হয়। অর্থাৎ তার সাথে আমার ওই কথোপকথনটি হয় রমজান মাসে। এনসিপি আত্মপ্রকাশ করে রমজানের ঠিক আগের দিন। রমজান মাসে এনসিপির কোনো দলীয় কার্যক্রম ছিল না। কাজেই আমারো জানার সুযোগ নেই তিনি আমাদের দল করতে ইচ্ছুক কি না। অর্থাৎ তার সাথে আমার কথাবার্তা সাংগঠনিক কোনো স্কোপের বাইরে হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, উপরের পোস্টে তিনি একবার লিখেছেন এনসিপি আত্মপ্রকাশের দিন তিনি (২৮ ফেব্রুয়ারি, তখনো রোজা শুরু হতে একদিন বাকি) দেশে এসেছেন। আবার তিনি লিখেছেন, আমার সাথে যখন কথা হচ্ছিল ওই অডিওতে তখন তিনি নেপালে ছিলেন। রমজান মাসে আমার পক্ষে জানার কোনো সুযোগ ছিল না তিনি এনসিপি সংশ্লিষ্ট কি না। সে সময়ে আমি আমাদের ২১৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিরই সকলকে চিনে উঠতে পারি নাই। বলার কথাটা হচ্ছে এই, তার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির আশায় আমি তাকে দল থেকে দূরে রাখতে বলেছি, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট৷ গতকাল পর্যন্ত তিনি আমার কাছে দাবি করেছেন কারা কল রেকর্ড করেছে এবং কারা লিক করেছে তা আমার মতো তিনিও জানেন না। তিনি নাকি বিষয়টি দলের ভেতর মিটমাট করতে চান। এর আগেই ধারণকৃত অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব করে দিয়েছেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, কথোপকথনটি রমজান মাসের। তিনি দলের প্রধান নাহিদ ইসলামকে ঘটনাটি সর্বপ্রথম জানান কোরবানি ঈদের রাতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে। মৌখিকভাবে। নাহিদ ইসলাম তাকে বলেন কোনো অভিযোগ থাকলে যেন শৃঙ্খলা কমিটিকে জানান। তিনি জানিয়েছেন এমন কোনো তথ্য নাই। অডিও লিক করার পর তিনি সামান্তা শারমিনকে জানিয়েছেন। অডিও লিক করার পর ঘটনাটি আর এনসিপির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এটা নিয়ে আলোচনা, হৈচৈ, মিডিয়া ট্রায়াল সব শুরু হয়ে যায়। রমজান মাসে তার সাথে আমার কথাবার্তার সাথে দলীয় হায়ারার্কি বা সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক ছিল না। দুইজন পরিচিত মানুষ হিসেবে আমরা কথা বলেছি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে দল আমার কাছে জবাব চেয়েছে, আমি দলের কাছে ব্যাখ্যা দেব।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন