স্তন একটি গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা
এক নারীর স্তন পুনরুদ্ধারের গল্প, বস্তুত গবেষণা
সারাহ
থর্নটন তার স্তন সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা করেননি। এগুলো অবশ্যই সেখানে ছিল এবং দুটি বাচ্চাকে খাইয়েছে। অবাঞ্ছিত দৃষ্টি আকর্ষণও করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এগুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল।
তার
পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে।
বছরের
পর বছর সতর্কতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার
পর ২০১৮ সালে থর্নটন এই রোগ প্রতিরোধের জন্য দুটি স্তনই অস্ত্রোপচার
করে সরিয়ে ফেলতে চাইলেন। অপারেশনের
প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি তখনও তার স্তন নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করেননি। ‘নতুন’ কৃত্রিম স্তন কেমন হবে তাও চিন্তা করেননি। পরে তিনি দেখলেন তার কৃত্রিম স্তন দুটি
প্রত্যাশার চেয়ে বড়। তখন তিনি মর্মাহত হয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘এতে আমার যেমন অনুভূতি হয়েছিল, বস্তুত এগুলো
তেমন নান্দনিক ছিল না। বরং এটা ছিল আবেগ হারানোর মতো। বিষয়টা আমাকে এ সম্পর্কে বোঝার জন্য তাড়িত করে যা আমি আগে কখনো
খুব বেশি ভাবিনি। এসব ভাবনাকে আমি বোবা স্তন বলে বাতিল করতাম।’
সারাহ
থর্নটনের নতুন বই টিটস আপ। নারীবক্ষ নিয়ে আমাদের
যে বিশ্বাস, এর সাথে জীবন, প্রেম, যৌনতা, সমাজ যেভাবে ঘোরাচ্ছন্ন—এ বিষয়টির
গভীরে নিয়ে যায় থর্নটনের বই।
লেখক
বলেছেন, ‘আগে আমি এগুলিকে শুধুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মনে
করতাম, যা ছাড়া
মানব প্রজাতি থাকে না। আমাদের শীর্ষ অংশগুলি পুরুষ আধিপত্য দ্বারা আক্রমণ করা হয়েছে। আগে আমি বুঝতে পারিনি যে স্তন সম্পর্কে
আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও কতটা গভীর পুরুষতান্ত্রিক। আমি তাদের বোবা স্তন হিসাবে বরখাস্ত করছিলাম, আংশিকভাবে। কারণ তারা মূলত আমাদের সংস্কৃতিতে কামোত্তেজক খেলার জিনিস। কিন্তু আমি কেবল একটি ইরোটিক খেলার বস্তু হতে চাইনি।’
লেখক বলছেন,
‘স্তন বিবর্তনীয়ভাবে
বা সর্বজনীনভাবে ইরোটিক বস্তু নয়। তবু স্তনের কারণে নারীকে অনেক চাপ, উদ্বেগ ও অসন্তুষ্টি পোহাতে হয়। এটি সত্যিই
লজ্জার বিষয়। যদি এটি গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা না হয় তাহলে নারীত্বের
প্রতীকী এই অঙ্গটির সম্মান
বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’
থর্নটন
কানাডায় বড় হয়েছেন তার ব্রিটিশ মায়ের সাথে। তারপর ২৬ বছর যুক্তরাজ্যে
কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ছিলেন শিল্পসাংবাদিক। তিনি ১২ বছর ধরে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার দেড় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
লেখক বলছেন,
‘আমি দেখলাম, পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় স্তন বর্ণনা করার জন্য অনেক বেশি শব্দ ব্যবহার
করে, যা আমাকে লাল পতাকার মতো আঘাত করল। স্তন বর্ণনা করতে গিয়ে কিভাবে কিশোর ছেলেরা
১০টি শব্দ ব্যবহার করতে পারে এবং কিশোরীরা মাত্র একটি ব্যবহার করে? এ থেকে কী মনে হয়?
কে এই স্তনের মালিক? তাই
এটি কেবল তার মালিকের জন্য কাজ করে৷
অনেক মেয়ের
ক্ষেত্রেই—তারা তাদের স্তনের বিকাশ সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে পুরুষের যৌনদৃষ্টির কারণে।
থর্নটনের বয়স যখন ১৫ বছর, তার অজানতেই, একটি গলফ ক্লাব রেস্তোরাঁয় তার একজন বয়স্ক
পুরুষ সহকর্মী তার স্তনে হাত দিয়েছিল। একদিন মাঝরাতে তার বন্ধুর বোনের বয়স্ক প্রেমিক
তাকে লাঞ্ছিত করেছিল। তিনি লিখেছেন, ‘আমর স্তন পরাজিত হয়ে গেছে। বোকা হয়ে গেছে। স্তন
দুটিকে বড় আকারের সোয়েটারের ভেতরে পুঁতে রাখার দরকার হয়েছিল।’ তিনি ‘ পেছনে তাকিয়ে
বলেন, ‘এটি আমার শরীরের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল। আমি নিশ্চিত হই যে আমার
স্তন দুটি এমন কিছু হয়ে উঠেছে যার নিচে আমি ঢাকা পড়ে যাচ্ছি। আমি খুব বিশ্রী এবং দুর্বল
বোধ করেছি।’
থর্নটন যখন
তার প্রথম দুই সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছিলেন তখন তার স্তনের একটি ভিন্ন অর্থ ছিল,
তবু তা তার জন্য বিশেষ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি আমার বুকের দুধ খাওয়াতে
যতটুকু পছন্দ করতাম আমি তার চেয়ে বেশি পছন্দ করতে চেয়েছি। কিন্তু আমার স্তন আমার জন্য
দ্বন্দ্বের উৎস হয়ে উঠেছিল।’
একজন ট্রান্সজেন্ডার
মহিলার সাক্ষাৎকার নিয়ে থর্নটন বলেন, ‘এই ট্রান্সজেন্ডার মহিলার স্তন অস্ত্রোপচার
ছিল মহিলা হিসাবে তার বৈধতার একটি অপরিহার্য অংশ।’ থর্নটন তার বইয়ে বলতে চেয়েছেন, স্তন
যেখানে নারীর মাতৃত্বের পরিচায়ক, মাতৃত্বের আনন্দ-সুখের উৎস, সমাজ-রাজনীতি সেই স্তনকে
নারীর জন্য অসম্মানজনক বস্তুতে পরিণত করেছে। এর জন্য তিনি সমাজ-সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন।
(এমিন সানার
বিশ্লেষণ, দ্য গার্ডিয়ান ডটকম থেকে)

