Logo
Logo
×

অভিমত

আল জাজিরার প্রতিবেদন

ভোটযুদ্ধের মাঠে টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

ভোটযুদ্ধের মাঠে টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সুরেই লড়াই।

নভেম্বরের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি তালে-ছন্দে বোনা গান। অনেকের কাছে এটিকে গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি মনে হলেও, বাস্তবে এটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে তৈরি একটি রাজনৈতিক সংগীত।

গানের কথা ছিল, ‘নৌকা, শীষ আর লাঙলের দিন শেষ; এবার পাল্লাই গড়বে বাংলাদেশ’। গানের এই লাইনগুলো প্রতীকী, যেখানে তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতীককে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙল—এই তিনটি প্রতীক বাংলাদেশের তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের: আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির। এই গানের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে, জনগণ পুরোনো দলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জামায়াতের প্রতীক পাল্লা—তাদের ভাষায় নতুন এক বাংলাদেশ গঠনের প্রতীক হয়ে উঠছে।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে যেমন সরব প্রস্তুতি, তেমনি অনলাইনেও চলছে প্রচারণার যুদ্ধ। একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে আরেকটি শক্তিশালী জোট। দুই পক্ষই চেষ্টা করছে তরুণ ভোটারদের মন জয়ের, বিশেষ করে সেই তরুণরা, যারা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

গানের এই জনপ্রিয়তা অন্যান্য দলগুলোকেও অনুপ্রাণিত করেছে। বিএনপির তরফে একটি গানে বলা হয়, ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ; ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ’। জাতীয় নাগরিক পার্টি, যারা ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে, তারাও তাদের গান অনলাইনে ছেড়েছে এবং সেটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

তবে শুধু গান নয়, বিভিন্ন ছোট ভিডিও, সাক্ষাৎকার, ব্যাখ্যামূলক পোস্ট আর ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টেও ভরে উঠেছে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম আর টিকটক। একদম নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এই ডিজিটাল প্রচারণা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ।

এই বিশাল অনলাইন জনসংখ্যাকে কেন্দ্র করে দলগুলো তাদের কৌশল সাজিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন এখন সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ফলে এই নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। বিএনপি নিজেকে অভিজ্ঞ ও বিশ্বাসযোগ্য সরকার হিসেবে তুলে ধরছে, আর জামায়াত চেষ্টা করছে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে।

বিএনপি নীতিনির্ধারণী প্রস্তাব তুলে ধরতে শুরু করেছে ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ নামের একটি ওয়েবসাইটে। সেখানে সাধারণ মানুষ জানাতে পারছে, তারা এসব প্রস্তাবের সঙ্গে একমত কি না। জামায়াতও চালু করেছে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইট।

জামায়াতের নেতা জুবায়ের আহমদ বলেন, তাদের প্রচারণা মূলত নিজের বিশ্বাসকে ঘিরেই আবর্তিত। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যদের দেখি, কিন্তু অনুসরণ করি না। আমাদের প্রতিযোগিতা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক’।

পাশাপাশি একটি বড় অনলাইন বিষয় হয়ে উঠেছে গণভোট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে জুলাই সনদ তৈরি করেছে, তার ওপর এই ভোট। এই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি, নির্বাচনী কারচুপি রোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সরকার এই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, পুরোনো ধাঁচের মিডিয়ার ব্যবহার কমে এসেছে। এখন মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার জরুরি।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

তবে অনলাইন যতই শক্তিশালী হোক, মাঠের প্রচারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকে। গানের মাধ্যমে আলোচনায় আসা প্রবাসী গায়ক হাল বান্না বলেন, মাঠের প্রচারের কোনও বিকল্প নেই, তবে অনলাইন প্রচারণা মানুষকে আলোচনার বিষয় দেয়।

বাংলাদেশের ভোটার যেহেতু তরুণপ্রধান, তাই এই অনলাইন উপস্থিতি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। 


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন